Wednesday, March 13, 2019
Home > শিক্ষা > রাজনীতিতে উড়ে এসে জুড়ে বসাদের প্রতিহত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

রাজনীতিতে উড়ে এসে জুড়ে বসাদের প্রতিহত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, রাজনীতি এখন গরিবের ভাউজ। গ্রামের ভাষায় ভাউজ হচ্ছে ভাবি। গরীবের বউ হচ্ছে সবার ভাবি। এখন রাজনীতিও তেমন। তাই রাজনীতিতে উড়ে এসে জুড়ে বসাদের প্রতিহত করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এখন যে কেউ চাইলেই রাজনীতিতে আসতে পারছে। ডাক্তার, শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার, অবসরপ্রাপ্ত আইজি, ডিআইজি যে কেউ ৫৯, ৬৫ কিংবা তারও পরে রাজনীতিতে যেতে পারে। এছাড়া ব্যবসায়ীরা তো আছেই। কিন্তু অন্য পেশায় কেউ চাইলেই যেতে পারে না। রাজনীতি এখন গরিবের ভাউজ (ভাবি)।

আবদুল হামিদ বলেন, রাজনীতিতে উড়ে এসে জুড়ে বসা লোকদের প্রতিহত করতে হবে। রাজনীতিবিদদের বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে। তবে হ্যাঁ বিশেষজ্ঞ দরকার আছে। সেটি ভিন্ন বিষয়। রাজনীতিতে আসতে হলে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে চাকরিতে প্রবেশের মতো তরুণ বয়সেই আসতে হবে।

বৈবাহিক জীবনের বয়সের হিসাব তো বছর দিয়েই করা হয়, তাই না? তবে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সে হিসাব কষেছেন সেকেন্ডের হিসাবে। আর সে হিসাব তিনি তুলে ধরার পর পড়ে গেল হাসির রোল।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১ তম সমাবর্তনে গুরুগম্ভীর আলোচনার পাশাপাশি রসিকতায় পরিপূর্ণ বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের জন্য পুরো অনুষ্ঠানটিকেই উপভোগ্য করে তুলেছেন রাষ্ট্রপতি। বক্তব্যের মধ্যে তুমুল হাততালি আর হাসাহাসিতে অবশ্য মাঝে তাকেও কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থাকতে হয়েছে।

বিয়েটা তুলনামূলক অল্প বয়সে করেছিলেন রাষ্ট্রপতি। সেই হিসাব তুলে ধরে সমাবর্তনে বলেন, ‘আমার বিয়ের বয়স এক কোটি ৭০ লক্ষ ২৯২ হাজার সেকেন্ড!’

এমন হিসাব কে কখন শুনেছে? তাও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের মতো অনুষ্ঠানে? যা হওয়ার তাই হয়েছে, সজোরে হাসার পাশাপাশি পড়ে তুমুল হাততালি।

বিশ্বসুন্দরী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সঙ্গে দেখা না হওয়ার আক্ষেপে পুড়ছেন রাষ্ট্রপতি। তার সঙ্গে গাঁটছড়া যদি বাঁধা যেত, সেই কামনাও রয়েছে তার।

বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের দেখতে ভারতীয় নায়িকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া যখন বাংলাদেশে আসেন, তখন আমি মনে করেছিলাম সে বঙ্গভবনেও আসবে এবং আসাটাই ছিল স্বাভাবিক।’

কিন্তু বাঁধা হয়ে দাঁড়ান রাষ্ট্রপতি ‘বেরসিক স্ত্রী’। সে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে বলেছিলাম (প্রিয়াঙ্কার কথা)। কিন্তু পরে আমার স্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে বলেন, প্রিয়াঙ্কার বঙ্গভবনে আসার কী দরকার? ফলে সে আর আসেনি৷ কিন্তু পরে জানতে পারি সে সুদূর আমেরিকায় গিয়ে তার চেয়ে ১২ বছরের ছোট ‘নিক’ নামে এক ছেলেকে বিবাহ করেছে।’

আক্ষেপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যদি সে (প্রিয়াঙ্কা) ১২ বছর নিচে নামতে পারে, তাহলে ৩০-৩৫ বছর উপরেও ওঠতে পারত। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমার সেটা হলো না।’

যেই না রাষ্ট্রপতি এই কথা বললেন, হাসি আর থামে না। সেই সঙ্গে চলতে থাকে হাততালি।

স্ত্রী যেন এই ধরনের ‘নির্যাতন’ করতে না পারেন, সে জন্য পুরুষ নির্যাতন আইন কেন নেই, সেটি নিয়েও আফসোস করেন রাষ্ট্রপতি। বলেন, ‘যখন সংসদে আমি স্পিকার ছিলাম তখন নারী নির্যাতন আইন পাস হয়। আইনটি পাস হওয়ার পর আমি প্রধানমন্ত্রীকে বললাম, নারী নির্যাতন আইন তো করলেন, পুরুষ নির্যাতন আইন কবে করবেন? কারণ শুধু আমার ঘরে নয়, সবার ঘরে একই সমস্যা হচ্ছে।’

“তখন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘দেখা যাক প্রয়োজন হলে পরে করব’। অনেক বছর পেরিয়ে গেছে কিন্তু আইনটি এখনো হলো না’।

প্রেম সাহিত্যের ‘অধোঃগতি’ নিয়ে চিন্তিত রাষ্ট্রপতি। বলেন, ‘আগে আমরা প্রেমিকাকে প্রেমপত্র লিখতাম, আমি নিজেও লিখেছি বেশ কয়েকবার। কিন্তু বর্তমান সময়ের তরুণ তরুণীরা এত বেশি ইন্টারনেটে আসক্ত হয়ে গেছে যে তারা সব কাজ মোবাইলে করে। চিঠির আর প্রয়োজন হয় না। ফলে প্রেম সাহিত্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে৷ এই সাহিত্যেকে টিকিয়ে রাখতে হলে, মোবাইলের ব্যবহার কমিয়ে আমাদের প্রেমপত্র লিখতে হবে।’

এই হাস্যরসের মধ্যেই অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়ে গেলেন রাষ্ট্রপতি। রাজনীতির বর্তমান হাল তার ভালো লাগছে না, সেটা জানিয়ে দেন সরাসরি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার গ্র্যাজুয়েটদের সংখ্যা ২১ হাজার ১১১ জন গ্র্যাজুয়েট। যা ঢাবির ইতিহাসে সর্বাধিক। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ৯৬টি স্বর্ণপদক, ৮১ জনকে পিএইচডি এবং ২৭ জনকে এমফিল ডিগ্রি দেয়া হবে।

%d bloggers like this: