Thursday, March 14, 2019
Home > মুক্তিযুদ্ধ > মুক্তিযোদ্ধা কোটার দাবিতে সড়ক, রেল, নৌপথ অবরোধের ডাক

মুক্তিযোদ্ধা কোটার দাবিতে সড়ক, রেল, নৌপথ অবরোধের ডাক

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখা ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ সারাদেশে সড়ক, নৌপথ ও রেলপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে। শাহবাগ মোড়েও তারা অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

শনিবার শাহবাগ মোড়ে সমাবেশ থেকে এই ঘোষণা দেন মঞ্চের মুখপাত্র আ ক ম জামালউদ্দিন। তিনি দাবি আদায়ে সারাদেশে আন্দোলন গড়ে তোলারও আহ্বান জানিয়েছেন।

গত বুধবার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিসভা। পরদিন জারি হয় পরিপত্র। আর এই সিদ্ধান্তের পর বুধবার বিকালে শাহবাগে অবস্থান নেয় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা।

এর মধ্যে শুক্রবার এমবিবিএসে ভর্তি পরীক্ষার জন্য নয় ঘণ্টা কর্মসূচি শিথিল রাখা হয়। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উপলক্ষেও শিথিল থাকে অবরোধ। তবে বিকাল তিনটায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাবেশ।

সমাবেশে মানিকগঞ্জ, নেত্রকোণা, রাজশাহী, বরিশাল, শেরপুর, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা যোগ দেয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতার সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাই যতদিন দেশ থাকবে ততদিন দেশের চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের ৩০ শতাংশ কোটা বহাল রাখতে হবে।’

মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা রাজাকার আলবদর আলসামসের সন্তানদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।

সমাবেশ শুরুর আগে বৃষ্টি হানা দিলেও এর মধ্যেই কর্মসূচি চালিয়ে যান তারা। তারা মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে নানা স্লোগান দেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর নির্বাহী আদেশে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদেরকেও এই কোটার আওতায় আনে। আর সে সময় থেকেই এই কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামার চেষ্টা করে জামায়াতপন্থীরা। সে সময় এবং এরপর আরও একাধিকবার আন্দোলনে নেমে ব্যর্থ হয় তারা।

তবে গত ফেব্রুয়ারিতে কোনো কোটার কথা না বলে সব মিলিয়ে কোটা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ নামে একটি সংগঠন। আর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে কমিটির সুপারিশে সরকার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা তুলে দিয়ে শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে আগের মতোই কোটা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

এর প্রতিবাদে শাহবাগ অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে শাহবাগ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এই মোড় হয়ে চলাচলকারী গাড়িগুলোকে বিকল্প পথ ব্যবহার করে চলতে হচ্ছে। এতে যানজটে ভোগা এই নগরীতে চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে আরও বেশি।

তবে স্পর্শকাতর বিবেচনায় পুলিশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদেরকে বাধা দিচ্ছে না। যদিও কর্মসূচির আশেপাশে তারা অবস্থান নিয়ে আছে। কর্মকর্তার জানান, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

%d bloggers like this: