Monday, March 18, 2019
Home > শিক্ষা > বাঙালি জাতির মুক্তির প্রতিটি সংগ্রামের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বাঙালি জাতির মুক্তির প্রতিটি সংগ্রামের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

কেবল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বা তার নিজের বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বাঙালি জাতির মুক্তির প্রতিটি সংগ্রামের সূতিকাগার হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই বরাবর অগ্রাধিকার পাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে মেয়েদের জন্য নির্মিত ৭ মার্চ ভবন উদ্বোধন করতে গিয়ে এ কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক ছাত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষায় জন্য সংগ্রাম থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান। সেই দিক থেকে স্বাভাবিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটু অগ্রাধিকার পেয়েই থাকে।

‘তার মানে এই না, অন্যকে আমরা অবহেলা করি, অন্যদেরকেও আমরা অবহেলা করি না। প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি আমরা বাস্তবায়ন করি এবং করে যাচ্ছি’- বলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ ও বাঙালি জাতির অর্জনে যত সংগ্রাম হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার সূতিকাগার হিসেবেই আন্দোলনের সূচনা করে এগিয়ে নিয়ে গেছে। তাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মর্যাদা আমাদের কাছে অন্য রকম।’

জাতির পিতা এবং তিনি নিজে ছাড়াও তার ভাই শেখ কামাল ছাড়াও পরিবারের প্রায় সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র ছিলেন। যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি, শেখ ফজলুল করিম সেলিমও এই বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়েছেন, সেটিও জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রায় ৩৫ মিনিটের বক্তব্যে পাকিস্তান আমলে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ভাষা আন্দোলনের সূচনা, ৬৯ এর গণআন্দোলনের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে শিক্ষার বিস্তান, উচ্চশিক্ষায় বহুমুখীকরণে তার সরকারের নেয়া উদ্যোগ ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

সকাল সাড়ে ১০টায় রোকেয়া হলে গিয়ে ভবনটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি হল মিলনায়তনে অনুষ্ঠানস্থলে যান।

মোট ৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনটিতে এক হাজার ছাত্রী থাকতে পারবেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের আমলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ১০টি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আটটির কাজ শেষ হয়েছে, চলছে আরও দুটির কাজ।

বর্তমান সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৫টি অত্যাবশ্যক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি একাডেমিক ভবন, একটি প্রশাসনিক ভবন, ২৫টি আবাসিক ভবন। এগুলোর মধ্যে ছাত্র ছাত্রীদের হল আটটি যাতে প্রায় পাঁচ হাজার ছাত্র ছাত্রী থাকতে পারে। আরও দুই হাজার ছাত্র ছাত্রীর থাকার জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কর্মচারীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছি।

উচ্চশিক্ষার বিস্তার বহুমুখীকরণ

শিক্ষাকে বহুমুখী করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। আর এ জন্য তার সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগেরও বর্ণনা দেন তিনি। জানান, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, মেরিটাইম, ভেটেরিনারে অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স, ফ্যশন ডিজাইন ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার বিষয়টি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহ কমে যাওয়ার বিষয়টি দেখে চিন্তিত হন। এরপর এই শিক্ষায় আগ্রহ বাড়াতে ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলেন।

‘পরে আমরা যতবার সরকারে এসেছি, নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। দেশের প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আমরা প্রথমবার করেছিলাম। এবার আরও দুটি করেছি রাজশাহী ও চট্টগ্রামে। সিলেটেও একটা করে দিচ্ছি। প্রাথমিকভাবে আমরা প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আমরা একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দেব।’

‘দেশে একটিমাত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এখন সরকারি-বেসরকারি খাতে অনেকগুলো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করেছি।’

‘প্রতিটি জেলায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। ঘরের ভাত খেয়ে আমাদের ছেলে মেয়েরা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারে, সে সুযোগটা সৃষ্টি করে দেয়ার চেষ্টা করেছি।’

‘এভাবে শিক্ষাকে বহুমুখী করা এবং বিস্তৃত করে দিচ্ছি সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী। এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগও আমরা সৃষ্টি করে দিচ্ছি যেন আমাদের ছেলেপুলেরা লেখাপড়া করতে পারে, সেই সাথে বিদেশে গিয়েও যেন আরও উচ্চশিক্ষা নিতে পারে তার ব্যবস্থাও আমরা করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরি করছি। সেখানেও দক্ষ জনগোষ্ঠী দরকার। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে আমরা মহাকাশ জয় করেছি, সেটাও অব্যাহত রাখা দরকার। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট আমরা পাঠিয়েছি। এরপর বঙ্গবন্ধু-২, বঙ্গবন্ধু-৩ পাঠাব। তখনও আমাদের দক্ষ জনগোষ্ঠী দরকার। সেটাকে লক্ষ্য রেখেই শিক্ষা সম্প্রসারণ করা এবং উন্নত করার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

সবচেয়ে কম খরচে উচ্চশিক্ষা, মর্যাদা রাখুন

সারা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশেই সবচেয়ে কম খরচে উচ্চশিক্ষা নেয়া যায় উল্লেখ করে এর মর্যাদা রাখতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেবল কেতাবী শিক্ষা না, জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে সর্বক্ষেত্রে শিক্ষা নিতে হবে। সেই শিক্ষা যেটা গ্রহণ করবে, তার সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায়, সে দিকেও বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অটোনমি আছে, এটা স্বায়ত্বশাসিত। স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের উপার্জনে চলবে। কিন্তু যারা শিক্ষার্থী তাদেরকে ভাবা উচিত, পৃথিবীর মধ্যে বোধহয় সবচেয়ে কম খরচে উচ্চশিক্ষা বাংলাদেশে দেয়া হয়ে থাকে।’

‘সমস্ত খরচ, প্রায় শতভাগ সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে। এটা পৃথিবীর আর কোনো দেশে আছে বলে আমি জানি না। আমরা আরও অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তো খোঁজ খবর রাখি। কিন্তু আমরা বাংলাদেশে তা করি। এর মর্যাদাটা তাদেরকে দিতে হবে।’

‘উশ্চ্ছৃঙ্খলাটা কখনও গ্রহণযোগ্য না। সবাইকে একটা নিয়ম মেনে চলতে হবে।…আমরা সেটা আশা করি, জাতি আশা করে।’

গবেষণাতে গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রী জানান, বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ ট্রাস্ট করে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

‘কারণ, গবেষণা ছাড়া কখনও উন্নত হওয়া যায় না। আজকে যে বাংলাদেশ খাদ্যে যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বা কৃষিতে যে বিপ্লব, তা গবেষণা ছাড়া হয়নি।’

‘এখন চিংড়ি গবেষণা, সমুদ্র গবেষণা থেকে শুরু করে বহুমুখী গবেষণা হচ্ছে। আমরা এভাবে আমাদের জনগোষ্ঠী যেন শিক্ষিত, দক্ষ এবং বহুমুখী হয়।’

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসি চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আখতারুজ্জামান, প্রে প্রো উপাচার্য অধ্যাপক মো. সামাদ ও নাসরিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ কামাল উদ্দিন, রোকেয়া হলের প্রভোস্ট জিনাত হুদা প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রতি বছরে সরকারের ব্যয় এক লাখ ৯৪ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থ যেন অপচয় না হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কোনো প্রকল্প আনলে প্রধানমন্ত্রী কোনো কার্পণ্য করেন না। তুললেই বলেন ‘পাস’।

%d bloggers like this: