Tuesday, January 8, 2019
Home > অফিস আদালত > সিনহার বিরুদ্ধে ১১ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ

সিনহার বিরুদ্ধে ১১ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে অর্থপাচার, নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১ অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মধ্যে আছে আর তাতে তার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসতে চাননি অপর বিচারপতিরা।

আজ শনিবার বিকালে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার সৈয়দ আমিনুল ইসলাম এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। তাতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সুপ্রিম কোর্টের অন্য বিচারপতিদের কাছে ওই সব অভিযোগের নথি তুলে ধরেছেন।

এক মাসের ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি শুক্রবার রাতে অস্ট্রেলিয়া গেছেন। আর তিনি এক মাসের ছুটির জন্য আবেদন করেন গত ২ অক্টোবর। তাতে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন। তবে বিদেশ যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের দেয়া এক লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়, তার শারীরিক অসুস্থতা নেই। আর দুই বিবৃতিতে দুই ধরনের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি বিদেশে যাওয়ার আগে যে বিবৃতি দিয়েছেন তার প্রেক্ষিতেই এই বিবৃতি দেয়ার কথা জানান সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার। তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির পদটি একটি প্রতিষ্ঠান। সেই পদের ও বিচার বিভাগের মর্যাদা সমুন্নত রাখার স্বার্থে ইতোপূর্বে সুপ্রিম কোর্টের তরফ হইতে কোনো প্রকার বক্তব্য বা বিবৃতি প্রদান করা হয় নাই। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নির্দেশক্রমে উপরিউক্ত বিবৃতি প্রদান করা হইল।’

প্রধান বিচারপতির দ্বিতীয় বিবৃতি সুপ্রিম কোর্টের নজরে এসেছে জানিয়ে রেজিস্ট্রারের দপ্তর থেকে পাঠানো বিবৃতিতে সিনহার বক্তব্যকে বিভ্রান্তিমূলক বলা হয়েছে। এতে জানানো হয়, সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগ উঠার পর আপিল বিভাগের বিচারপতিরা তার সঙ্গে বসতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। আর এরপর তিনি পদত্যাগের কথা বলেছিলেন। ২ অক্টোবর যেদিন তিনি ছুটির দরখাস্ত দেন, সেদিনই পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা ছিল তার।

রেজিস্ট্রারের দপ্তর থেকে বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ছাড়া আপিল বিভাগের অন্য পাঁচজন বিচারপতিকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। বিচারপতি মো. ইমান আলী দেশের বাইরে থাকায় তিনি সেদিন যেতে পারেননি। তবে বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা, সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এবং মির্জা হোসেইন হায়দার রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করেন। সেদিনই সিনহার বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের দালিলিক তথ্য বিচারপতিদের কাছে দেন রাষ্ট্রপতি। এসব তথ্যের মধ্যে আছে বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলন প্রভৃতি।

বিচারপতি মো. ইমান আলী ঢাকায় ফেরার পর ১ অক্টোবর পাঁচ বিচারপতি বৈঠক করে এই ১১ অভিযোগ পর্যালোচনা করেন। এরপর তারা তা প্রধান বিচারপতিকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। সেদিন কথা হয়, যদি প্রধান বিচারপতি এসব অভিযোগের ব্যাপারে কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারেন, তাহলে তার সঙ্গে বসে বিচার পরিচালনা করবেন না অন্য পাঁচজন। সেদিন বেলা সাড়ে ১১টায় পাঁচ বিচারপতি প্রধান বিচারপতির ১৯ হেয়ার রোডের বাসায় যান এবং এসব অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে সেদিন কোন ব্যাখ্যা বা সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এরপর পাঁচ বিচারপতি প্রধান বিচারপতিকে জানিয়ে আসেন যে, অভিযোগগুলোর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে বিচারকাজ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।

এ সময় প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলেন তিনি পদত্যাগ করবেন আর এ ব্যাপারে তিনি ২ অক্টোবর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। তবে সেদিন তিনি পাঁচ বিচারপতিকে কোনো কিছু না জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে এক মাসের ছুটির দরখাস্ত দেন। আর রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দেন।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে বিচারক অপসারণের ক্ষমতা সংসদের বদলে সামরিক শাসনামলে প্রবর্তিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছেই রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ আপিল বিভাগের বিচারকরা। এই রায়ের পর্যবেক্ষণে দেয়া নানা বক্তব্যে সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

আর নানা ঘটনাপ্রবাহের পর শুক্রবার রাতে অস্ট্রেলিয়া গেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এক মাসের সফরে তার যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় যাওয়ার কথা আছে। ১০ নভেম্বর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

%d bloggers like this: