Monday, December 10, 2018
Home > জাতীয় > জিয়া,খালেদা ও এরশাদ সরকার বিচারকদের পত্রপাঠ বিদায় করে দিয়েছিল

জিয়া,খালেদা ও এরশাদ সরকার বিচারকদের পত্রপাঠ বিদায় করে দিয়েছিল

অতীতে বিচারপতিদের নিয়ে অনেক খেলা হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও এরশাদ সরকার বিচারকদের পত্রপাঠ বিদায় করে দিয়েছিল।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভার শুরুতে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভা শুরু হয়।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ছুটি ও বিদেশ যাওয়া নিয়ে বিএনপির সমালোচনার দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের সময় বিচার বিভাগকে সরকারের কুক্ষিগত করা হয়েছিল। সামরিক নির্দেশে বিচারকদের এজলাস থেকে বিদায় করে দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর যতজন বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছিলাম ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এক দিনে ১০ জনকে পত্রপাঠ বিদায় করা হয়, এরপর আরও ছয়জনকে বিদায় করা হয়। আমাদের নিয়োগকৃত সবাইকে বিদায় দেয়া হলো। পরে অবশ্য কয়েকজন রিট করে ফেরত আসেন।’

প্রশাসনেও একই অবস্থা তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সেখানে দলীয়করণ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সেখানে কোনো নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা ছিল না। যা হুকুম দেবে সেটাই পালন করতে হবে। জাতীয় সংসদে ভোট কারচুপির মাধ্যমে তাদের মনমতো কিছু লোক বসিয়ে দিয়ে তামাশা করা হতো। স্বাধীনতা বিরোধীদের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও উপদেষ্টা করে সংসদে বসানো হয়। শুধু তাই নয়, জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনিদেরও সংসদে বসানো হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে জনগণের সেবা যে সরকারের কাজ সেটার উপর গুরুত্ব দিয়েছি। নির্বাচনকে কীভাবে স্বচ্ছ ও জবাবদিহি করা যায়, জনগণ যেন স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেই আন্দোলন শুরু করি। মানুষকে সচেতন করি ভোট তাদের অধিকার।’

সব সময় নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে প্রধান বিচারপতির বয়স বাড়িয়ে ৬৫ করা হয়েছিল। যাতে করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামে যেটা করা হয়েছিল, তার প্রধান উপদেষ্টা বানানোর জন্য। বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক কে এম হাছানকে বানানোর জন্যই এটা করা হয়েছিল। তাকে প্রধান উপদেষ্টা করে ভোট চুরির ষড়যন্ত্র করেছিল।’

এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে তখন আন্দোলন করার কতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহাজোটের মাধ্যমে সবার সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য আমরা কিছু প্রস্তাব দিই। সেখানে ছবিসহ ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সসহ তার অনেকগুলো কার্যকর হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৭ সালের জরুরি অবস্থা জারির পর অনেকেই ধারণা করেছিল খুব তাড়াতাড়ি একটা নির্বাচন হবে। কিন্তু তখন নির্বাচন তো দূরের কথা জনগণের ক্ষমতায়নকে কুক্ষিগত করা হয়। আমি বিদেশে ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেয়া হয়েছিল, কিন্তু তারপরও আমরা থেমে থাকিনি।’ ওই সময় দলের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনও যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় সেটাই আমরা চাই। কারণ আমরা জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি। আমাদের প্রস্তাবেই স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স হতে শুরু করে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা হয়েছে।

ভোট নেয়ার পদ্ধতি নিয়ে তার দলের অবস্থান সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ‘ইলেকট্রনিক ভোটিং (ই-ভোট) সিস্টেম পৃথিবীর অনেক সভ্য দেশে আছে। সেখানে একজন একটা ভোটই দিতে পারবে। কাজেই সেই প্রস্তাবই আমরা দিয়েছি। কিছু জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে নির্বাচন হয়েছিল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। সেই সিস্টেম যেন আসে আমরা সেটাকেও চাই। আওয়ামী লীগের একটা কথা হলো মানুষের ভোটের যে সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে, তা সে প্রয়োগ করবে স্বাধীনভাবে এবং নিরপক্ষভাবে। সেটা যদি করতে পারি তাহলে একটা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকবে।’

আগামী নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সংলাপে তার দল অংশ নেবে এবং এ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে অনেকগুলো ড্রাফট করেছি। সেগুলো আমি নিজেও দেখেছি। তা আজকের বৈঠকে উপস্থাপন করব। গণতন্ত্রের মজবুত ভীত তৈরি করা, জনগণের ক্ষমতাকে সুরক্ষিত করাই আমাদের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন করার জন্যই যা যা করণীয় তা করতে চাই।’

%d bloggers like this: