Monday, December 10, 2018
Home > বিশেষ প্রতিবেদন > আব্দুর রাজ্জাক থেকে মহানায়ক রাজরাজ্জাক

আব্দুর রাজ্জাক থেকে মহানায়ক রাজরাজ্জাক

তার নাম আব্দুর রাজ্জাক। কিন্তু চলচ্চিত্রাঙ্গনে তাকে সবাই চেনেন রাজ্জাক নামেই। এই নামটিকে ছাপিয়ে তিনি নায়করাজ হিসেবেই সুপরিচিতি পেয়েছেন। ক্ষণজন্মা এই মহাতারকা আজ সন্ধ্যায় মৃত্যুবরণ করেছেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বাংলা চলচ্চিত্রের এই প্রবাদ পুরুষ সংগ্রামী জীবন যাপন করেছেন। চলচ্চিত্রের জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন। যার জন্য পেয়েছেন নায়করাজ উপাধী।  তাকে এই উপাধী দিয়েছিলেন চিত্রালী সম্পাদক আহমেদ জামান চৌধুরী।

১৯৬৪ সালৈ কলকাতার হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার কারণে পরিবার নিয়ে ঢাকায় আসেন। ঢালিউডে নায়ক হিসেবে প্রথম চলচ্চিত্র: জহির রায়হানের বেহুলা। নায়করাজের শেষ ছবি ১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মালামতি।

নায়করাজ রাজ্জাক প্রায় ৩০০টি বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পরিচালনা করেছেন প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র। এই মহানায়কের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো বাংলা চলচ্চিত্রে এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের মোড় ঘোরানো অনেক ছবির কুশীলব-অভিনেতা নায়ক রাজ্জাক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পদকসহ উল্লেখযোগ্য প্রায় সব পুরস্কারই পেয়েছেন এই গুণী অভিনেতা।

নায়করাজ রাজ্জাক বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে স্থাপন করেছেন অনেক মাইলফলক।  ‘অনন্ত প্রেম’ ছবি দিয়ে সূচনা করেন রোমান্টিকতার এক নতুন যুগের।  ‘রংবাজ’ ছবি দিয়ে শুরু করেন অ্যাকশন ঘরানার ছবি। এর আগে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘ওরা ১১ জন’ ছবিটি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে প্রথম ছবি। স্বাধীনতার আগে ভাষা আন্দোলন নিয়ে তার অভিনীত ছবি ‘জীবন থেকে নেয়া’।

ময়নামতি, অশিক্ষিত, অভিযান, নীল আকাশের নিচে, অবুঝ মন, বেঈমানসহ বহু জনপ্রিয় ছবির এই অভিনেতা তার অভিনয় প্রতিভায় ঠায় করে নিয়েছেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে।

১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের টালিগঞ্জে জন্ম নায়করাজ রাজ্জাকের, যার পারিবারিক নাম আবদুর রাজ্জাক। ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাড়ি জমান তিনি। প্রথম দিকে রাজ্জাক তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে ‘ঘরোয়া’ নামের ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি আব্দুল জব্বার খানের সাথে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান।

%d bloggers like this: