Tuesday, January 8, 2019
Home > রাজনীতি > বিএনপির শক্তি দিন দিন কমে যাচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

বিএনপির শক্তি দিন দিন কমে যাচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

বিএনপি সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন ‘এদের (বিএনপি) শক্তি দিন দিন কমে যাচ্ছে। চেয়ারম্যান দেশের বাইরে, ভাইস চেয়ারম্যান বিদেশে; কবে আসবে কেউ জানে না। টেমস নদীর পারে বসে বসে চোরাগলি খুঁজছেন, কোনো গলি দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া যায় ।

আজ শুক্রবার বাংলা একাডেমিতে শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন সড়কমন্ত্রী।

 

বিএনপির মহাসচিবের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব, পদত্যাগের কথা বলেন। ৭৫-পরবর্তী সময়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার হলো শেখ হাসিনার সরকার। তার সরকারের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পদত্যাগের প্রলাপ বকতে শুরু করেছেন।’

গতকাল বৃহস্পতিবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে যে রায় প্রকাশিত হয়েছে, তা কোনো সভ্য দেশে হলে সরকার পদত্যাগ করত।

ফখরুলের বক্তব্য সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের একটি ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত বলেও মনে করেন কাদের। ফখরুলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আলমগীর সাহেব, বাংলাদেশ পাকিস্তান নয়। কোন ইঙ্গিতে এ কথা বলছেন সেটা আমরা জানি। এদেশ পাকিস্তান নয়, পাকিস্তানকে পরাজিত করে স্বাধীন হয়েছে।’

সম্প্রতি একটি দুর্নীতি মামলায় আদালত অযোগ্য ঘোষণা করার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন।

বিএনপির মহাসচিবের উদ্দেশে কাদের আরও বলেন, ‘আপনাকে বলি ফখরুল সাহেব, আবারও বলি- বাংলাদেশে এক-দু্ইটা আঘাতে স্তিমিত হওয়ার দল আওয়ামী লীগ নয়। শেখ হাসিনার সরকারের ক্ষমতার ভিত ও আওয়ামী লীগের গণভিত্তি অনেক শক্তিশালী। আওয়ামী লীগকে আঘাত করে পরাজিত করা যাবে না।’

বরং দীর্ঘদিনেও আন্দোলন করতে না পারার জন্য বিএনপির উপর থেকে নিচ সবাইকে পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘বিএনপি আমাদের পদত্যাগ করতে বলে। তারা আট বছর আট মিনিটের জন্যও রাজপথে উত্তাপ আনতে পারেনি। সেই ব্যর্থতা নিয়ে তাদের টপ-টু-বটম পদত্যাগ করা উচিত।’

কাদের বলেন, ‘এদের (বিএনপি) শক্তি দিন দিন কমে যাচ্ছে। চেয়ারম্যান দেশের বাইরে, ভাইস চেয়ারম্যান বিদেশে; কবে আসবে কেউ জানে না। টেমস নদীর পারে বসে বসে চোরাগলি খুঁজছেন, কোনো গলি দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া যায়।’

আওয়ামী লীগের ‘অন্ধকার দূর করার প্রতিজ্ঞা এখনো দুর্বল হয়নি’ মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমাদের সরকারের গণভিত ও দলের ক্ষমতার ভিত অনেক। আপনার (ফখরুল) মনের জ্বালা, কষ্ট আমি বুঝি। আন্দোলনের কথা বলেন, কিন্তু মরা গাঙ্গে জোয়ার আসেনি। কবে আসবে জানি না, ঈদ যায়, মাস যায়। কেবলই ডাক। সে ডাক আষাঢ়ের তর্জন-গর্জনই সার।’

ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে আগস্টের এই আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর দলের অনেকেই চেহারা পাল্টিয়েছিলেন। তখন অনেককে বাড়িতে গিয়ে দরজা নক করেও পেতাম না। বাড়িতে থেকেও বলতেন নেই। অনেক কথা। আমরা কিন্তু পালাইনি। রাজনীতিতে জীবিতদের সম্পর্কে মন্তব্য করা কঠিন। জীবিতদের নিয়ে সত্য কথা বলা যায় না।’

সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য র আ ম ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত মমতাজ হোসেন, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন প্রমুখ।

%d bloggers like this: