Wednesday, January 9, 2019
Home > জাতীয় > কাজের মান নিয়ন্ত্রক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা : প্রধানমন্ত্রী

কাজের মান নিয়ন্ত্রক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা : প্রধানমন্ত্রী

কর্মীদের দক্ষতা, সততা ও কর্মনিষ্ঠার ওপরই সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নির্ভর করে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কাজের মান নিয়ন্ত্রণে আপনারা কোনোভাবেই আপস করবেন না, এটা হচ্ছে আমাদের অনুরোধ।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনয়াতনে ‘আগামীর জন্য কারিগরি দক্ষতা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারের আনুষ্ঠানিক সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স-বাংলাদেশ (আইডিইবি) এবং সিপিএসসির যৌথভাবে তিনদিনব্যাপী এ সেমিনারের আয়োজন করেছে।

গত আট বছরে আমরা দেশের প্রতিটি সেক্টরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করেছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আমরা অনেক উন্নতি করেছিলাম। কিন্তু সেটা ধরে রাখতে পারিনি, কারণ সরকারের ধারাবাহিকতা ছিল না। কারণ ২০০১ এ সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে যাই। ২০০৮ এর পর ২০১৪ সালের নির্বাচনে আমরা আবার ক্ষমতায় আসতে পেরেছিলাম বলেই উন্নয়নের গতিধারাটা আমরা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি এবং সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।’

অনেকে আমাদের জনসংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধি কোনো একটা উদ্বেগজনক ব্যাপার না’। তিনি বলেন, ‘যদি তাদেরকে শিক্ষা-দীক্ষা দিয়ে তৈরি করতে পারি। তারাই হচ্ছে আমাদের মূল সম্পদ। জনসংখ্যাই হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।’

স্থানীয় ও বৈশ্বিক শ্রমশক্তির চাহিদা অনুযায়ী পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষাকে ঢেলে সাজানোর তাগিদ দেন তিনি। বলেন, জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনশক্তি আমাদের জনসম্পদ। এই সম্পদকে আমাদের আরও ভালভাবে শিক্ষায় দীক্ষায় উন্নত করে গড়ে তুলতে হবে। সে দিকে লক্ষ্য রেখে আর জনশক্তি সেটা শুধু ছেলেরা নয়, ছেলে মেয়ে উভয়ই যেন সমানভাবে শিক্ষিত হতে পারে সেদিকে আমরা বিশেষভাবে আমরা দৃষ্টি দিয়েছি।’

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে মাত্র কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষার্থীর হার মাত্র ১.৮ ভাগ ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের নানাবিধ পরিকল্পনা করায় এবং আমরা যেসব উদ্যোগ নিয়েছি তার ফলে এটা শতকরা ১৪ ভাগে উন্নীত হয়েছে।’

কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় ২০২০ সালের মধ্যে আমরা শতকরা ২০ ভাগ, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ লাভ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৫০ ভাগে উন্নীত করব-এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে কারিগরি শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা জানান, এখন দেশে নারীদের জন্য চারটিসহ মোট ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং বেসরকারি পর্যায়ে সরকার অনুমোদিত ৪৬৭টি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনা করে যাচ্ছে। সরকারি প্রতিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে দ্বিতীয় শিফট চালু হয়েছে। আর যে জেলাগুলোতে এখন পযন্ত এই ইনস্টিটিউট নেই, সেখানে বিশ্বমানের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চালুর পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

বিভাগীয় চারটি শহরে নারীদের জন্য পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাহলে প্রত্যেক বিভাগে একটা করে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থাকবে। প্রত্যেকটি বিভাগে একটি করে মহিলা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করা হবে।’

দেশে বর্তমানে ৬৪টি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট ও কলেজ চালু আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ সরকারি করার পাশাপাশি একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজও করা হবে। এরই মধ্যে ১০০টি উপজেলায় কাজ শুরু হয়েছে।

‘দক্ষ জনশক্তি একটি দেশ ও জাতির সমষ্টিক উন্নয়নকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম’-এমন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জ্ঞানভিত্তিক দক্ষতা ও প্রায়োগিক দক্ষতার সমন্বয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষাকে ঢেলে সাজাতে হবে। টেকনিক্যাল শিক্ষা এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। কারিগরি শিক্ষাকে এ জন্য পর্যায়ক্রমে মূল ধারার শিক্ষায় সম্পৃক্ত করতে হবে।’

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার সমন্বয়ে একটি যৌথ প্লাটফর্ম তৈরিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা এবং কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাকে মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। তাদেরকেও আমাদের যুগোপযোগী শিক্ষা দিতে হবে। তারাও যেন দূরে না থেকে মূল শক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলে ভবিষ্যতটাকে সুন্দর করতে পারে।’

উন্নয়ন পরিকল্পনায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা এবং পরিবেশের দিকটি মাথায় রাখারও তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘প্রকৃতির খেলা বোঝা ভার, প্রকৃতি যে রকমেরই সমস্যা তৈরি করুক না কেন, মানুষ সচেতন থাকলে সব সমস্যার সমাধান করা যায়। সে জন্য যে কোনো কর্মপরিকল্পনা নেয়ার ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে আমাদের ভৌগলিক অবস্থা, আমাদের জলবায়ু এবং আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ মাথায় রেখেই সব পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই আমরা যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারব।’

সম্মেলনে জার্মান, ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া, চীনসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা আইএলও, এডিবি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, জিআইজেড, ওআইসি, ভারতের এনআইটিটিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগ দেন বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া সিপিএসসি সদস্যভুক্ত ১৬টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। টেকসই উন্নয়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সর্বোত্তম পদ্ধতি ও কৌশলের উপর ৬০টি প্রবন্ধ পর্যালোচনা হবে তিনদিনের এই আন্তর্জাতিক সেমিনারে।

 

%d bloggers like this: