Friday, March 15, 2019
Home > খেলা > ক্রিকেটারদের আচরণ শোধরাতে বিসিবির ‘হুঁশিয়ারি’

ক্রিকেটারদের আচরণ শোধরাতে বিসিবির ‘হুঁশিয়ারি’

গত আড়াই বছরে জাতীয় দলের চারজন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে নারীঘটিত অভিযোগ উঠল। ক্রিকেটারদের নৈতিক বিচ্যুতির ব্যাপারগুলো সামনে আসছে কিছুদিন পরপরই। সাফল্যের গ্রাফ ঊর্ধ্বগামী, কিন্তু মাঠের সৈনিকরা ব্যক্তিজীবনে কতটা নৈতিক হতে পেরেছেন সেটা প্রশ্নবিদ্ধ। বিষয়টিতে বিব্রত হচ্ছে দেশের ক্রিকেট বোর্ডও। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে ক্রিকেটারদের সংযত রাখতে তাই সামনে আরও কঠোর হওয়ার কথা বললেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

সময়ের সঙ্গে যেমন তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। যার মাধ্যমে বিশ্বের বুকে লাল-সবুজের মিলেছে আলাদা পরিচিতি। মাঠে ক্রিকেটারদের লড়াই গর্বে ভাসায় দেশবাসীকে। খেলোয়াড়দের ‘রোল মডেল’ মানেন অনেকেই। অথচ নানা নেতিবাচক ঘটনায় শ্রদ্ধার সেই স্থানটা ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন অনেক ক্রিকেটারই। সম্প্রতি সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন মোহাম্মদ শহীদ। এই পেসারের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও শিশু কন্যাসন্তানকে অস্বীকারের অভিযোগ এনেছেন তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার। তারপর ক্রিকেটারদের নৈতিকতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায়।

‘ক্রিকেট এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় একটা খেলা। তারচেয়েও বড় কথা হচ্ছে, ক্রিকেট প্লেয়াররা এখন এত বেশি জনপ্রিয়, ওরা রোল মডেল হিসেবে কাজ করবে দেশের জন্য। আমরা এটাই আশা করি। ওদের এমন কোনকিছুই করা উচিত না, যেটা নতুন প্রজন্মকে ভুল পথ অনুসরণে ঠেলে দিতে পারে। এ ব্যাপারে বিসিবির পক্ষ থেকে আমরা আরও কঠোর হবো। ওদের সাথে কথা বলব, নির্দেশনা দেওয়া হবে। আমরা আশা করি, খুব শিগগিরই এসব ঘটনা কমে আসবে।’ এভাবেই বিসিবির অবস্থান জানালেন সভাপতি।

সঙ্গে ক্রিকেটারদের আরও নৈতিক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন নাজমুল হাসান, ‘বিসিবির সভাপতি হিসেবে বলছি, আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল- কেবল ভালো খেলোয়াড় হলেই হবে না, ভালো মানুষ হতে হবে। এটা হল মূল। আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি, ভালো মানুষ হতে হবে। সেজন্য কিন্তু আমরা অনেক চেষ্টা করছি তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার। আমাদের এখানে যখন থাকে, খেলা হলে যখন হোটেল থাকে, আমরা তখন আগের চেয়েও অনেক কঠোর হয়েছি তাদের নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে। সমস্যাটা হল, ওর যখন এখান থেকে চলে যাচ্ছে তখন তাদের পারিবারিক বিষয়ে আমরা সরাসরি ঢুকতে পারছি না। তবে যে ধরনের ঘটনাগুলো ঘটছে, আমাদের নজরে আছে। আমরা এগুলো দেখছি। কেউ এগুলো মেনে নিতে পারছি না।’

ফৌজদারি অভিযোগের কারণে গত আড়াই বছরে জাতীয় দলের তিন ক্রিকেটার রুবেল হোসেন, শাহাদাত হোসেন রাজিব ও আরাফাত সানিকে জেলহাজতে যেতে হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানার খড়গও নেমেছিল কয়েকজন ক্রিকেটারের ওপর। গত বিপিএলের মাঝপথে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে বড় অঙ্কের জরিমানা দেন সাব্বির রহমান ও আল-আমিন হোসেন।

নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ ছিল রংপুর রাইডার্সের জুপিটার ঘোষের বিরুদ্ধেও। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তবে সেটি অবশ্য আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে। তারও আগে লাইভ চলা অবস্থায় টিভি ক্যামেরার সামনে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির জন্য তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিলেন সাকিব।

বিসিবি তখন দলের সেরা তারকার ব্যাপারে ছাড় দেয়নি। ভবিষ্যতে দেবে যে না, সেটি স্পষ্ট করেই বলছেন নাজমুল হাসান, ‘যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, একটা একটা করে যদি দেখেন আমাদের থেকে কোনও সাপোর্ট কেউ পায়নি। এমনকি খেলা থেকে সাসপেন্ডও করা হয়েছিল। আমরা কিন্তু ওদের বিপক্ষে অ্যাকশন নিয়েছি। এখনও তাই হবে। আমরা চাইবো সব (শহীদের ব্যাপারটি) ঠিকঠাক হয়ে যাক। যদি না হয়, ভবিষ্যতে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিবে বিসিবি।’

%d bloggers like this: