Wednesday, March 13, 2019
Home > মুক্তিযুদ্ধ > গোপালগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সেজে ভাতা নেওয়ার অভিযোগ

গোপালগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সেজে ভাতা নেওয়ার অভিযোগ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে মু্ক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সেজে ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে এক যুগের বেশী সময় ধরে ভাতা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে অঞ্জনা রানী বিশ্বাস রাধা নামের এক নারীর বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে ওই এলাকার তাহাজ্জত হোসেন নামে এক ব্যক্তিসহ এলাকাবাসী ১১ জুন কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মো. ওয়াহিদুজ্জামানকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

জানা গেছে, কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের টিয়ারডাঙ্গা গ্রামের প্রিয়নাথ বিশ্বাসের ছেলে হরে কেষ্ট বিশ্বাস মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আর্থিক অভাব অনটনের কারণে স্ত্রী পাঁচি বিশ্বাস ও এক মাত্র ছেলে স্বপন বিশ্বাস, ভাই কালীপদ বিশ্বাস, গোপীনাথ বিশ্বাসকে নিয়ে ভারতে চলে যান। ভারতের নদীয়া জেলার রানাঘাট থানার নিচ সিংহপুর গ্রামে বসতি স্থাপন করেন তিনি। সেখানে গিয়ে ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকেন।

বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা চালুর খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা হরে কেষ্ট বিশ্বাস কিছু দিন পরই বাংলাদেশে আসেন এবং তৎকালীন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. খবিরউদ্দিন মোল্যা খোকার বাড়িতে উঠেন। উপজেলা কমান্ডার ভাতা দেবেন এই আশ্বাস দিয়ে বিনা বেতনে বেশ কিছুদিন তাকে নিজের বাড়িতে কাজের লোক হিসেবে কাজ করান। এক পর্যায়ে ভাতা না হওয়ার কারণে স্ত্রী ও পুত্রের টানে তিনি আবারো ভারতে ফিরে যান। কয়েক মাসের মধ্যেই সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পার্শ্ববর্তী পদ্মবিলা গ্রামের অঞ্জনা রানী বিশ্বাস রাধা মুক্তিযোদ্ধা হরে কেষ্ট বিশ্বাসের স্ত্রী সেজে ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে ২০০৪ সালের জুন মাস থেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতাভোগী হয়ে যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অঞ্জলী রানী বিশ্বাসের প্রতিবেশীরা জানান, তার (অঞ্জলী রানী রাধার) স্বামীর নামও হরে কেষ্ট বিশ্বাস। একটি ছেলের জন্ম হলে সে স্ত্রী অঞ্জলীর সঙ্গে ঝগড়া করে ভারতে চলে যায় এবং দ্বিতীয় বিয়ে করে। সে বর্তমানে ভারতের পেপরুমন্ড ঘাট নামক স্থানে বসবাস করছে।

মুক্তিযোদ্ধা হরে কেষ্ট বিশ্বাসের চাচাত ভাই নির্মল বিশ্বাস মোবাইল ফোনে বলেন, অঞ্জলী রানী বিশ্বাস রাধার স্বামীর নাম একই হওয়ার সুযোগে আমার ভাইয়ের স্ত্রী সেজে ভাতা করে ভোগ করছে দীর্ঘ কয়েক বছর। সে আমার ভাইয়ের স্ত্রী ছিল না, সে প্রতারণা করে ভাতার টাকা আত্মসাৎ করছে।

কাশিয়ানীর বর্তমান উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. এনায়েত হোসেন বলেন, ওই নারীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য বলেই আমার বিশ্বাস। ওই নারীর ভাতা বন্ধ করে দিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ বলে তিনি মনে করেন।

এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, অভিযুক্ত অঞ্জনা রানী বিশ্বাস আমার সামনেই আসেনি। আমি চেষ্টা করেও তার সঙ্গে দেখা করতে পারিনি।

তিনি জানান, অঞ্জনার প্রতিবেশীরা জানায়, সে বাড়িতেই আছে, কেউ এলে পালিয়ে থাকে। তিনি আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছেন যে, অভিযুক্ত অঞ্জনা রানী প্রতারণার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে দুই-একদিনের মধ্যে তিনি তার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

 

%d bloggers like this: