দুর্দান্ত সিরিজ জয় টাইগারদের

কত সঙ্গী এলেন-গেলেন, কিন্তু টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান থেকে গেলেন শেষ পর্যন্ত। ব্যাট হাতে নিজে তুলে নিলেন অপ্রতিরোধ্য ৯৬ রানের ইনিংস। আর তাতেই জয় পেল সফররত বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে সাকিবের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৩ উইকেটের জয় নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতল টাইগাররা। দুর্দান্ত এই জয়ে তামিম-সাকিবদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে বল হাতে সাকিবের নিয়েছিলেন পাঁচ উইকেট। আর দ্বিতীয় ম্যাচে ২ উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও এসেছে রান। আর তাতেই সিরিজ রাসেল ডোমিঙ্গোর শিষ্যদের।

হারারে ক্রিকেট গ্রাউন্ডে জিম্বাবুয়ের দেয়া ২৪১ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল ধীরগতির। ওপেনিং জুটিতে তামিম-লিটন মিলে তুলেন ৩৯ রান। পরে পাঁচ ওভারের ব্যবধানে সাজঘরে ফেরেন তামিম(২০), লিটন(২১) এবং মিঠুন(২)। পরের উইকেটে ব্যাট করতে আসা মোসাদ্দেক করেন ৫ রান।

৭৫ রানে ৪ উইকেটে হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশ জয়ের স্বপ্ন দেখান দলের দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। পঞ্চম উইকেটে দুজন মিলে তুলেন ৫৫ রান। কিন্তু মুজারাবানির বলে ২৬ রানে মাহমুদউল্লাহ আউট হওয়ার পরে সাকিবের সঙ্গ দিতে পারছিলেন না কেউই।

কিন্তু একাই খেলে যান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ক্রমান্বয়ে মিরাজ, আফিফ এবং সাইফউদ্দিনকে নিয়ে দলকে দেখান জয়ের স্বপ্ন। কিন্তু মিরাজ (৬) এবং আফিফ (১৫) দুজনই ব্যর্থ হন।

শেষ পর্যন্ত অষ্টম উইকেট জুটিতে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে ৬৯ রানের অপ্রতিরোধ্য পার্টনারশিপ গড়ে দলকে জয় এনে দেন সাকিব। ব্যাট হাতে ১০৯ বলে ৮ চারে ৯৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। এদিকে সাইফউদ্দিন অপরাজিত থাকেন ২৮ রানে।

হারারে ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে প্রথমে ব্যাট নেমে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের জিম্বাবুয়ের। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ওপেনার তিনাশেকে মাত্র ১ রানেই সাজঘরে পাঠান পেসার তাসকিন আহমেদ। আর বল হাতে নিজের প্রথম ওভারে তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে বোল্ড করেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ১৩ রান করেন মারুমানি।

তৃতীয় উইকেটে ব্রেন্ডন টেলরের সঙ্গে ৪৭ রানের জুটি গড়ে উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান রেগিস চাকাভা। ব্যক্তিগত ২৬ রানে সাকিবের বলে বোল্ড আউট হন তিনি।

এদিকে বাংলাদেশের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা ব্রেন্ডর টেলর শরিফুলের বলে হিট উইকেট হন। জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক ৫৭ বলে করেন ৪৬ রান।

পঞ্চম উইকেটে ম্যাধেভেরেকে নিয়ে বড় জুটিই গড়ছিলেন ডিওন মেয়ার্স। কিন্তু সাকিবের ঘূর্ণিতে পরাস্থ মেয়ার্স। ৩৪ রান করে আউট হন তিনি।

নিজের দ্বিতীয় স্পেলে বল হাতে রীতিমতো আগুনের গোলা ছাড়েন শরিফুল ইসলাম। নিজের করা পরপর দুই ওভারে তিনটি উইকেট তুলে দেন। এ সময় তার বলে ফেরেন জিম্বাবুয়ের একমাত্র হাফ-সেঞ্চুরিয়ান ওয়েসলি ম্যাধেভেরে(৫৬), লুক জংউই(৮) এবং ব্লেসিং মুজারাবানি(০)।

এছাড়া ৪৪ বলে ৩০ রান করে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে কট বিহাইন্ড হন সিকান্দার রাজা। আর ৪ রানে চাতারা এবং ৭ রানে এনগারাভা অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম। এছাড়া দুটি উইকেট নেন সাকিব আল হাসান।