আওয়ামী লীগ মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে : বিএনপি মহাসচিব

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে, কিন্তু প্রকৃত পক্ষে তারা কখনোই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেনি। এই দলটি যারা নিজেদেরকে মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র ধারক বলে মনে করে, যারা সারাক্ষণ মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে, তারাই আজকে সবচেয়ে বেশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছে। জনগণের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল সেই আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধুলিসাৎ করে দিয়েছে। যে গণতন্ত্রের জন্য আমরা সবাই লড়াই করেছিলাম, সংগ্রাম করেছিলাম সেই গণতন্ত্রকে তারা হরণ করেছে, ধ্বংস করেছে এবং লুটে নিয়ে গেছে।’

সরকার দেশে ‘ছদ্মবেশী’ একদলীয শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে গণতন্ত্রকে লুট করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার দুপুরে জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান, বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ ১০/১৫ জন নেতাকর্মী নিয়ে দুপুর ২টায় বিএনপি মহাসচিব শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগের হাতে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার প্রাণ গেছে ১৯৭২ সালের পরে। এখনো তারা মুক্তিযুদ্ধের যারা সত্যিকারের দাবিদার হতে পারে, যেমন যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর্ উত্তম সাহেবের নামে মিথ্যাচার করছে, অপপ্রচার করছে, বেগম খালেদা জিয়ার নামে তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত আকাঙ্ক্ষাকে তারা পদদলিত করছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আজকে আহ্বান জানাচ্ছি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস না করে সত্যিকার অর্থেই দেশে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যে অবিলম্বে তাদের পদত্যাগ করে এখানে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায়, নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনগণের একটি সরকার প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা নিন।’

সকাল থেকে চন্দ্রিমা উদ্যানে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কিছু নেতা ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। বিএনপি মহাসচিবও চন্দ্রিমা উদ্যানের মূল প্রবেশ পথ থেকে হেঁটে সমাধিস্থলে আসেন।

মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতাকর্মীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গঠিত মুক্তিযোদ্ধাদেরে নিয়ে গঠিত জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধ দল। দুর্ভাগ্য আমাদের আজকে যারা এখানে মুক্তিযোদ্ধা আছেন তারা অত্যন্ত পরিচিত মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য তারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে্ছিলেন। সেই মুক্তিযোদ্ধাদের, সেই মুক্তিযোদ্ধা দলকে আজকে এখানে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে, আজকে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা যারা বয়োঃজ্যেষ্ঠ মানুষ আছি আমরা ইতিপূর্বে সবসময় গাড়ি মাজারের কাছে নিয়ে এসে আমরা আসতাম সেটাও এবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এই ঘটনার জন্য তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’