Wednesday, October 10, 2018
Home > সম্পাদকীয় > ইমেজ সংকটে পুলিশ ॥ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরী

ইমেজ সংকটে পুলিশ ॥ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরী

দীর্ঘ দিন পর হঠাৎ করে ইমেজ সংকটে পড়েছে পুলিশ। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ কেউ সাধারণ নাগরিকদের সাথে এমন আচরণ করে বসেন, যাতে গোটা সংস্থার উপর কলঙ্কের দাগ লেগে যায়। সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনা বিশ্লেষণে এ মন্তব্য করা খুবই স্বাভাবিক।
গত ৯ জানুয়ারী রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিউনিকেশন্স বিভাগের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীকে আটক এবং তৎপরবর্তী নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার ধকল শেষ না হতেই ১৫ জানুয়ারী ভোরে যাত্রাবাড়ির মিরহাজিরবাগে ডিএনসিসি’র পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র দাশকে নির্মম নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। শুধু তা-ই নয়, ‘মাছের রাজা ইলিশ দেশের রাজা পুলিশ’ বলে মন্তব্য করায় রীতিমতো সারাদেশে নিন্দার ঝড় বইছে। এরই মধ্যে দেশের কয়েকটি স্থানে পুলিশ সদস্য দ্বারা কয়েকজনকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ফলে হঠাৎ করে ভাবমূর্তি সঙ্কটে পড়েছে পুলিশ বাহিনী। তবে আশার কথা হলো, ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীকে নির্যাতনের ঘটনায় এস আই মাসুদ শিকদারকে ইতোমধ্যেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আর বিকাশ চন্দ্র দাশকে নির্যাতনকারী এসআই আরশাদ হোসেন আকাশকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন নির্যাতিত ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীকে নির্যাতনের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে ১৭ জানুয়ারী একটি রীট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। এতে ক্ষতিপূরণ দাবিসহ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতারের দাবি করা হয়েছে। সে কারণে সকলের চোখ এখন উচ্চ আদালতের দিকে।
পুলিশ দ্বারা হেনস্থা হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়ায় রূপ নিয়েছে। একটা ঘটনা আরেকটা ঘটনার জন্ম দেয়। যে কেউ অপরাধ করে পার পেয়ে গেলেই এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। ছোট হোক, আর বড় হোক – অপরাধের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে সুবিচার নিশ্চিত করতে পারলেই ঘটে যাওয়া ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব।
পুলিশ জনগণের বন্ধু – এটা সত্য। কিন্তু কতিপয় পুলিশ সদস্য বিভিন্ন সময় নিরাপত্তা তল্লাশীর নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানী ও নির্যাতন করে – এটাও সত্য। কিন্তু কেন এমন হয়? এর উত্তরে বলা যায় – পুলিশ সদস্যদেরকে কোন কোন ক্ষেত্রে, কোন কোন স্থানে রাজনৈতিক বিবেচনায় বা অন্য কোন পন্থায় নিয়োগ দেয়া হয়। ফলে দাম্ভিকতার দরুণ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। তবে, পুলিশসহ ডিসিপ্লেন ফোর্সে যারা চাকুরী লাভ করেন তারা যেন ঘুষ ছাড়া চাকুরী লাভ করেন সেদিকে কঠোরভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। আর যারা চাকুরী পেলেন তাদের সম্পর্কে ভালো ভাবে খোঁজ-খবর নিয়ে তারপর চূড়ান্তভাবে নিয়োগ প্রদানের বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। তাছাড়া এ বাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে এ প্রবণতা কিছুটা হলেও কমে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: