Tuesday, October 16, 2018
Home > বিশেষ প্রতিবেদন > ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ও পদ্মাসেতু শেখ হাসিনার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত : হুমায়ুন কবির

৫ জানুয়ারির নির্বাচন ও পদ্মাসেতু শেখ হাসিনার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত : হুমায়ুন কবির

এক.
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নবদিগন্তের পথে যাত্রা শুরু করেছে। এ নির্বাচনটি জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ, একদিকে গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষা; অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধী-রাজাকার-আলবদর-আলশামস বাহিনী, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস মোকাবেলা করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এ চ্যালেঞ্জ সাহসিকতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি-জামায়াত জোট জনগণের ভয়ে ভীত হয়ে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নাশকতার মাধ্যমে এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল যাতে করে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয় এবং তৃতীয় কোনো শক্তি ক্ষমতা গ্রহণ করে। যে কারণে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা তা-ব চালিয়ে অসংখ্য মানুষকে পুড়িয়ে  মেরেছে। দগ্ধ করেছে হাজারো মানুষকে। অসংখ্য যানবাহন ভাঙচুর করেছে। ৫৬৮টি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দিয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ করেছে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মালম্বীদের উপাসনালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছে। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। পুড়িয়ে দিয়েছে পবিত্র কোরআনসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের বই-পুস্তক। ৪২ বছরের পুরনো শহীদ মিনারসহ সারাদেশে অনেক শহীদ মিনার ভাঙচুর করা হয়েছে।
বিএনপি-জামায়াত তাদের বিদেশি প্রভুদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অগ্নি সন্ত্রাস, গ্রেনেড ও বোমাবাজি করে মানুষ পুড়িয়ে বাংলাদেশের সংবিধান ও গণতন্ত্র বিপন্ন করতে চেয়েছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছিল বাংলাদেশ একটি সন্ত্রাসী ও জঙ্গি রাষ্ট্র। আর এ নীলনকশার মাধ্যমে ৭১’র যুদ্ধাপরাধী-রাজাকার-আলবদর-আলশামস বাহিনীর বিচারকার্য চিরতরে বন্ধ করতে চেয়েছিল। উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে মানুষ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছে। কারণ শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা। বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার।
বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। গ্রামে গ্রামে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে গেছে। সব শ্রেণী পেশার মানুষের হাতে মোবাইল চলছে। সুশাসন নিশ্চিত হয়েছে। বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হয়েছে। শুরু হচ্ছে পারমানবিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ। সমান তালে চলছে উন্নয়ন। পরিত্যক্ত হাতিরঝিল এখন নান্দনিক সৌন্দর্যের বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মাসেতু। মেট্রো রেলের কাজও চলছে। ফ্লাইওভার ব্রিজ নির্মাণকাজ চলছে। বছরের প্রথম দিনেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে গেছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যুগান্তকারী পে-স্কেল প্রদান করা হয়েছে। অনলাইনে হচ্ছে পে-ফিক্সেশন। সকল অফিসিয়াল কাজ-কর্ম ধীরে ধীরে ডিজিটাল হচ্ছে। অটিজম শিশুদের অবহেলা নয়, সম্পদে পরিণত করার অদম্য প্রয়াস চলছে। ফলে দেশ আজ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে। জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে ২৬.০৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। অথচ বিএনপি-জামায়াত জোটের আমলে এর পরিমাণ ছিল ৮.০১ বিলিয়ন ডলার। সমুদ্র জয়ের ফলে বাংলাদেশ এখন ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। জলবায়ূর প্রভাব মোকাবেলা করতে সক্ষমে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল হয়েছে। সকল সেক্টরেই ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। আর তাই-তো ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার প্রতি মানুষের সমর্থনের পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। তার সরকারের জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে এটাই প্রমাণিত হয়েছে।
দুই.
বাংলাদেশে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু হবে এটা কেউ চিন্তা না করলেও শেখ হাসিনা তা বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। বিশ্বকে অবাক করে প্রমত্তা পদ্মার দুই তীরকে যুক্ত করতে সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। এ সেতু নির্মাণকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের কিছু বর্ণচোরা ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য দু’টি রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে বানোয়াট অভিযোগ এনে তা মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারের ব্যবস্থা করে। বলা হলো পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে! এই প্রকল্পে ‘ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া গেছে’। আর এ নিয়ে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন চতুর্মুখী চাঁপে অনুসন্ধান শুরু করে। দেশে-বিদেশে চলে অনুসন্ধান। আর প্রতিদিন মিডিয়ায় ঢোল পিটিয়ে চলে প্রচারণা। এ চাপ সহ্য করতে না পেরে দুদকের তৎকালীন চেয়ারম্যান গোলাম রহমান ষড়যন্ত্রের গন্ধের বিষয়ে মামলা করার জন্য গণমাধ্যমে ঘোষণা দেন। মামলা হলো। সচিব মোশাররফ হোসেন ভূইয়াকে গ্রেপ্তার করা হলো। আর অভিমান করে পদত্যাগ করলেন মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। কিন্তু মামলার ‘মূল আলামত’ এবং ‘ষড়যন্ত্রের গন্ধ’ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলো বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল। দুদকের তদন্তে এ মামলা প্রমাণিত না হওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন (এফআরটি) দাখিল করা হয়েছে।
দুদকের কমিশনার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বিস্তারিতভাবে ২৮ ডিসেম্বরের দৈনিক জনকণ্ঠ এবং ২৯ ডিসেম্বরের দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে চমৎকারভাবে পদ্মাসেতু প্রকল্পের দুর্নীতির অনুসন্ধান নিয়ে আলোকপাত করেছেন। যা থেকে সত্যিকারের ঘটনা প্রবাহ মানুষ জানতে পেরেছে। পাঠক হিসেবে আমিও বিস্তারিত অবগত হলাম। তবে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যতটুকু জানতে পেরেছি দুদকের কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এবং বর্তমান চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান পদ্মাসেতু সংক্রান্ত দুর্নীতির তথ্যবিহীন মামলা রুজুর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। কারণ, অনুসন্ধানের শুরু থেকেই বিশ্বব্যাংক তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ দিতে পারেনি। তাছাড়া আলোচিত ডায়েরিও উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্বব্যাংক। তদুপরি কেন এ মামলা দায়ের করা হলো তা বোধগম্য নয়।  আমার প্রশ্ন হলো – দুদক অহেতুক কেন এ মামলা করলো? সচিব মোশাররফ হোসেন ভূইয়াকে কেন কারাগারে যেতে হলো? মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন কেনো পদচ্যুত হলেন? মন্ত্রী ও সচিবকে সামাজিক, মানসিক, রাজনৈতিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার দায়ভার কে নেবে? পরিশেষে বলতে পারি – ক্ষতিপূরণসহ তাদের হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া হোক।
৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মাসেতু নির্মাণ দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার ভাগ্য উন্নয়নের  জন্য শুধু নয়, এটি সারা বাংলাদেশের ভাগ্য উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী ও সময়ের সাহসী পদক্ষেপ। শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সঙ্গে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর আমাদের দেশের কতিপয় অর্থনীতিবিদ ও সুশীল নামধারী ব্যক্তি, যারা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের বিরোধিতা করেছিল- তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন।
লেখক : হুমায়ুন কবির
সভাপতি
আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, কেন্দ্রীয় কমিটি
এবং
সহ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক
বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কেন্দ্রীয় কমিটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: