Friday, October 26, 2018
Home > অফিস আদালত > ব্লগারসহ ছয় হত্যা মামলার বিচার শুরুই হয়নি

ব্লগারসহ ছয় হত্যা মামলার বিচার শুরুই হয়নি

২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পল্লবীর নিজ বাসার সামনে গণজারণ মঞ্চের সংগঠক ও ‘থাবা বাবা’ নামের ব্লগার আহমেদ হায়দার রাজীবকে কুপিয়ে খুন করে দুর্বৃত্তরা। এরপর গত তিন বছরে একই রকম হামলায় খুন হন আরো ছয় ব্লগার ও মুক্তমনা। এই সাত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে রাজিব হত্যা মামলার রায় হলেও অন্য ছয় মামলার বিচার শুরু হয়নি এখনো।

এসব মামলার কোনোটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি এমনকি আসামি শনাক্ত হয়নি, কোনোটিতে আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে, কোনোটির বেলায় মামলার সর্বোচ্চ অগ্রগতি চার্জশিট জমা দেয়া পর্যন্ত।

এর মধ্যে বছর হতে চললেও বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায় হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন এখনো জমা দেয়নি পুলিশ। আরো করুণ অবস্থা অভিজিৎ রায়ের বইয়ের প্রকাশক দীপন হত্যা মামলার। এই হত্যাকাণ্ডের খুনিদের এখনো শনাক্ত করতে পারেনি তদন্তভার পাওয়া গোয়েন্দা পুলিশ। ফলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে কয়েকবার সময় নিয়েও তা আদালতে দিতে পারেনি অপরাধী অনুসন্ধানী সংস্থাটি।

দেশে ব্লগার খুনের প্রথম শিকার আহমেদ হায়দার রাজীব হত্যা মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। এ মামলার আট আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড ও  ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দেশে ব্লগার হত্যার ঘটনায় প্রথম রায় এটি।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, রাজীব হত্যাসহ অন্য খুনের ঘটনাগুলোর যোগসূত্র রয়েছে। ২০১৫ সালে ব্লগার অনন্ত বিজয়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, নিলাদ্রী শেখর নিলয়, অভিজিৎ রায় এবং প্রকাশক দীপন খুনের ঘটনায় জড়িত আনসারুল্লাহ বাংলা টিম। দীপন হত্যাকাণ্ড ছাড়া অন্যগুলোর ক্ষেত্রে আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল বুয়েটের নজরুল ইসলাম হলে দুর্বৃত্তের হামলায় আহত হন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী আরিফ রায়হান দীপ। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আ্ড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে।

ব্লগার অনন্ত বিজয় খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন আদালতে  দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যা মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে।

গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে তার স্ত্রী বন্যা আহত হন। এই মামলার অগ্রগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বেশ কবার গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন বন্যা।

অভিজিৎ হত্যা মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তদন্ত  প্রতিবেদন এখনো আদালতে জমা দিতে পারেনি পুলিশ।  গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শফিউর রহমান ফারাবি, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক তৌহিদুর রহমান, সাবেজ আলী, আমিনুল মল্লিক, জুলহাস বিশ্বাস, মো. জাফরান হাসান এবং মো. আবুল বাশার।

অভিজিৎ হত্যার মাস খানেক পর ৩০ মার্চ তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের বেগুনবাড়িতে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ব্লগার ওয়াশিকুর রহমানকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় স্থানীয় লোকজন দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করে আরিফুল ইসলাম ও জিকরুল্লাহ নামের দুজনকে আটক করে পুলিশে দেয়।

ওয়াশিকুর রহমান হত্যা মামলায় পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে গত ১ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।  তাদের মধ্যে আসামি জুনায়েদ তাহের ও হাসিব আবদুল্লাহ পলাতক। আরিফুল ইসলাম, জিকরুল্লাহ ও সাইফুল ইসলাম কারাগারে আছেন।

১২ মে সিলেটের সুবিদবাজারে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে খুন হন ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ। আর ৭ আগস্ট রাজধানীর তিলপাপাড়ায় বাসায় ঢুকে হত্যা করা হয় ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়কে।

অনন্ত বিজয় দাশ ও নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় দুজনই গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

অনন্ত বিজয় দাস হত্যা মামলায় সিলেটের ফটোসাংবাদিক ইদ্রিস আলী ও মোহাইমিন নোমানকে গ্রেপ্তার করা হলেও প্রয়োজনীয় নথি আদালতে উপস্থাপন করতে না পারায় এখনো মামলার শুনানি শুরু হয়নি। গত ২৮ অক্টোবর ইদ্রিস আলী আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে গেছেন।

আর ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে গত ১৪ আগস্ট সাদ আল নাহিন ও মাসুদ রানাকে রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

গোয়েন্দা পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ ঘটনায় অপর দুই আসামি কামাল হোসেন সরদার ও কাউসার হোসেন খানকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

নিলয় হত্যা মামলার চার আসামির মধ্যে সাদ আল নাহিন শ্রমমন্ত্রী মুজিবুল হকের ভাতিজা এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সক্রিয় সদস্য। তিনি ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন হত্যাচেষ্টা মামলার এজহারভুক্ত আসামি।

গত ৩১ আক্টোবর শাহবাগের আজিজ কো-অপারেটিভ মার্কেটে নিজের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জাগৃতির কার‌্যালয়ে দীপনকে কুপিয়ে খুন করে দুর্বৃত্তরা। দুই মাসেও তদন্ত শেষ না হওয়া কিংবা অপরাধী চিহ্নিত না হওয়ায় এ মামলার তদন্তের ভবিষ্যৎ নিয়েই আশঙ্কা তার পরিবারের।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেছেন, দীপন হত্যার বিষয়ে কথা বলার মতো কোনো অগ্রগতি হয়নি। কাউকে শনাক্ত করা হয়নি বলে গ্রেফতারও নেই। তবে তদন্ত চলছে।

এসব মামলার অবস্থা জানতে চাইলে উপকমিশনার মিডিয়া  বলেন, তদন্তাধীন এসব মামলার বিষয়ে এই মুহূর্তে কিছু বলতে চান না তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: