Wednesday, October 17, 2018
Home > নির্বাচন > পৌরসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৪ শতাংশ

পৌরসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৪ শতাংশ

নবম পৌরসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের তৈরি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। ইসির যুগ্ম সচিব জেসমিন টুলী জানান, স্থগিত ১৯ পৌরসভার ৫০টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বাদ দিয়ে এ হিসাব করা হয়েছে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৬০ লাখ ৬৩ হাজার ৭২৯জন ভোটারের মধ্যে ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ৭৬০ জন ভোটার পৌর নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। যা মোট ভোটারের ৭৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। ইসির জনসংযোগ পরিচালক এসএম আসাদুজ্জামান জানান, সাতজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আর কেন্দ্র স্থগিত হওয়ার কারণে ১৯ পৌরসভার হিসাব করা হয়নি। এক্ষেত্রে মোট ২০৮টি পৌরসভার প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।এদিক স্থগিত কেন্দ্রের ভোট বাদ দিয়ে হিসাব করে সংশ্লিষ্ট ১৮ রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ফলাফল পাঠাতে বলেছে নির্বাচন কমিশন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ওই ১৮ জন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে ইসির সহকারী সচিব রাজীব আহসান। এক্ষেত্রে স্থগিত কেন্দ্রের ভোট বাদ দিয়ে কাউকে বিজয়ী ঘোষণা করা গেলে বিজয়ী ঘোষণা করার ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে ওই নির্দেশনায়।

সারা দেশে ২৩৪ পৌরসভায় দিনভর ভোট গ্রহণ শেষে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৭ জনসহ মোট ১৭৮ পৌর মেয়র নির্বাচিত হয়েছে ক্ষমতাসীন দল থেকে। অন্য বৃহত্ রাজনৈতিক দল বিএনপি জয় পেয়েছে মাত্র ২২ পৌরসভায়। সরকারি দল চ্যালেঞ্জে পড়েছে নিজেদের বিদ্রোহীদের কাছে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা সারা দেশে ১৮টি স্থানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। বিএনপির পাশাপাশি ভরাডুবি হয়েছে জাতীয় পার্টিরও। মাত্র একটি পৌরসভায় জয় পেয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের দল। স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জামায়াত নেতারা উত্তরাঞ্চলের দুটি পৌরসভায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো প্রার্থী জিততে পারেননি। তবে খনি আন্দোলনের একজন নেতা জয় পেয়েছেন রাজশাহীর মুণ্ডুমালায়। মোট ফলাফল অনুসারে মেয়র পদে জয়লাভ করেছেনআওয়ামী লীগের ১৭৮ জন, বিএনপির ২২ জন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ১৮ জন, বিএনপির বিদ্রোহী ১ জন, জামায়াতের ইসলামীর ২ জন, জাতীয় পার্টির ১ জন, স্বতন্ত্র ৬ জন। এ ছাড়া কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত থাকায় ৬টি পৌরসভায় বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ঘাঁটি বলে খ্যাত বগুড়া, নোয়াখালী, ফেনীতে ভরাডুবি হয়েছে বিএনপির। বৃহত্তর রংপুরে মাত্র একটি পৌরসভায় জয় পেয়েছে জাতীয় পার্টি। জানা যায়, প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে মেয়র নির্বাচনের লড়াইয়ে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ২০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। বেশির ভাগ অঞ্চলে মূল লড়াই হয়েছে আওয়ামী লীগের নৌকা ও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যেই। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিরাজ করা রাজনৈতিক বন্ধ্যত্ব কাটানোর এ নির্বাচন বিএনপির পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। নির্বাচনে সবমিলিয়ে ৬৬০ জন দলীয় ও ২৮৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেছেন। এর মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের ২৩৪ জন, বিএনপির ২২৩ জন, জাতীয় পার্টির ৭৪ জন। এ ছাড়া অর্ধ শতাধিক আওয়ামী লীগ-বিএনপির বিদ্রোহীরা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ ছাড়া এলডিপি ১ জন, জেপি ৬ জন, সিপিবি ৪ জন, ন্যাপ ১ জন, ওয়ার্কার্স পার্টি ৮ জন, বিকল্পধারা ১ জন, জাসদ ২১ জন, বাসদ ১ জন, তরিকত ফেডারেশন ১ জন, এনপিপি ১৭ জন, পিডিপি ১ জন, ইসলামী ঐক্যজোট ১ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৫৭ জন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ১ জন, খেলাফত মজলিসের ১ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন।

পঞ্চগড় : পঞ্চগড় সদরে বিএনপি প্রার্থী মো. তৌহিদুল ইসলাম বেসরকারিভাবে ১৩,৮৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের জাকিয়া খাতুন পেয়েছেন ৬,৭৯৮ ভোট।

ঠাকুরগাঁও : জেলার ৩টি পৌরসভার মধ্যে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ২১ কেন্দ্রের মধ্যে ৩টি স্থগিত থাকায় ১৮ কেন্দ্রে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ১৫,৭৫৯ ভোট এগিয়ে আছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের তাহমিনা আখতার মোল্লা পেয়েছেন ১০,৭০১ ভোট। স্থগিত ৩ কেন্দ্রে ৬,৩৬১ ভোট থাকলেও মির্জা ফয়সলকেই বিজয়ী বলে ধারণা করছে স্থানীয় মহল। রাণীশংকৈলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলমগীর সরকার ৪,৮৮১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থ মোকাররম হোসেন পেয়েছেন ৩,৪৯১ ভোট। পীরগঞ্জে জিতেছেন আওয়ামী লীগের কসিরুল আলম। ভোট পেয়েছেন ৫,৭০৪। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির রাজিউর রহমান রাজু পেয়েছেন ৫,১৩৬ ভোট।

দিনাজপুর : জেলার ৫ পৌরসভার মধ্যে সদরে বিএনপির সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ৩৯,৫৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ২৪,৫৩৪। ফুলবাড়ীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী খনি আন্দোলনের নেতা মুরতুজা সরকার মানিক বিজয়ী হয়েছেন ৬,৪০৯ ভোট পেয়ে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের শাহাজাহান আলী সরকার পুতু পেয়েছেন ৪,৭৯১ ভোট। বীরগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা মোহাম্মদ হানিফ ৪,৫০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম আওয়ামী লীগের মোশাররফ হোসেন বাবুল পেয়েছেন ৩,৮৪৮ ভোট। বিরামপুরে বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত আলী সরকার পেয়েছেন ৯,৭৬৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আক্কাস আলী পেয়েছেন ৯,০২৩ ভোট। হাকিমপুরে আওয়ামী লীগের এন এ এম জামিল হোসেন চলন্ত ৮,৯৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী পেয়েছেন ৪,৯১২ ভোট।

নীলফামারী : জেলার দুই পৌরসভার মধ্যে জলঢাকায় বিএনপির প্রার্থী ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী ৯,৬৫৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইলিয়াস হোসেন বাবলু পেয়েছেন ৭,৫৪০ ভোট। সৈয়দপুরে প্রায় ১১ হাজার ভোটের ৪টি কেন্দ্র স্থগিত থাকায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা যায়নি। তবে বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেন ২৫,৮৩৫ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের শাখাওয়াত হোসেন পেয়েছেন ১৯,৯৪০ ভোট। তাদের ভোটের পার্থক্য প্রায় ৬ হাজার।

লালমনিরহাট : লালমনিরহাট সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু ১৪,৫৬১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবদুল হালিম পেয়েছেন ১০,২২২ ভোট। পাটগ্রামে আওয়ামী লীগের শমশের আলী ৭,১৪৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এ কে মোস্তফা সানাউজ্জামান ওপেল পেয়েছেন ৪,১২৪ ভোট।

রংপুর : রংপুরের বদরগঞ্জে আওয়ামী লীগের উত্তম কুমার সাহা বিজয়ী হয়েছেন। পেয়েছেন ৬,৯৯২ ভোট। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুল হক পেয়েছেন ৫,৯৯৫ ভোট।

কুড়িগ্রাম : সদরে আওয়ামী লীগের আবদুল জলিল ১৮,৭১০ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নুর ইসলাম নুরু। নাগেশ্বরীতে জয় পাওয়া জাতীয় পার্টির আবদুর রহমানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ হোসেন ফাকু। উলিপুরে বিএনপির তারিক আবুল জয় পেয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজাদুর রহমান সাজুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধা সদরে আওয়ামী লীগের অ্যাড. শাহ মাসুদ কবীর মিলন ১০,৬৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র আনওয়ার উল সারওয়ার পেয়েছেন ৭,২৭২ ভোট। গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আতাউর রহমান ১৫,৫১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফারুক আহমেদ পেয়েছেন ৫,৭৯৩ ভোট। সুন্দরগঞ্জে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল্লাহ্ আল মামুন (৫,১৮০ ভোট) নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আজাদুল করিম প্রামাণিক নিপু পেয়েছেন ১,৯৯৩ ভোট। সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের ৬ পৌরসভার মধ্যে ৫ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন— কাজিপুর পৌরসভায় হাজী নিজাম উদ্দিন, বেলকুচি পৌরসভায় বেগম আশানুর বিশ্বাস, শাহজাদপুর পৌরসভায় হালিমুল হক মীরু, উল্লাপাড়া পৌরসভায় নজরুল ইসলাম ও রায়গঞ্জ পৌরসভায় আবদুল্লাহ পাঠান। সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় সৈয়দ আবদুর রউফ মুক্তা এগিয়ে রয়েছেন। রাজশাহী : রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ ৮ পৌরসভায় ও বিএনপি ২ পৌরসভায় জিতেছেন। গোদাগাড়ী পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনিরুল ইসলাম বাবু ১০ হাজার ৩৮৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৮ ভোট। কাঁকনহাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আবদুল মজিদ মাস্টার ৫ হাজার ৮০৭ ভোট ও তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির হাফিজুর রহমান হাফিজ পেয়েছেন ৪ হাজার ৪২৮ ভোট। বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৭ হাজার ৮০৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবু নঈম শামসুর রহমান মিন্টু পেয়েছেন ৩ হাজার ২০৩ ভোট। ভবানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের আবদুল মালেক মণ্ডল ৬ হাজার ৯ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবদুর রাজ্জাক পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৫ ভোট। মুণ্ডুমালায় আওয়ামী লীগের গোলাম রাব্বানী ৬ হাজার ৪৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ফিরোজ কবির পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৬ ভোট। মোহনপুরের কেশরহাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের শহিদুজ্জামান শহিদ ৭ হাজার ৩৪৩ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াত সমর্থক হাফিজুর রহমান জগ প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৯৬ ভোট। দুর্গাপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের তোফাজ্জল হোসেন পেয়েছেন ৮ হাজার ৮৮ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হাসানুজ্জামান সান্টু জগ প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৭২৭ ভোট। বাঘার আড়ানী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মুক্তার আলী ৫ হাজার ১৯৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির তোজাম্মেল হক পেয়েছেন ২ হাজার ৭৫০ ভোট। চারঘাট পৌরসভায় বিএনপির জাকিরুল ইসলাম বিকুল ৭ হাজার ৭৩৭ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নার্গিছ খাতুন পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৩০ ভোট। পবার নওহাটা পৌরসভায় বিএনপির মকবুল হোসেন ১২ হাজার ৭৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আবদুল বারী খান পেয়েছেন ১১ হাজার ৬৭৯ ভোট।

নওগাঁ : নওগাঁর নজিপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল ইসলাম চৌধুরী জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৬ হাজার ২৪৭ ভোট। বিএনপির প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৩২টি। ৪১৫ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল ইসলাম চৌধুরীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

নাটোর : নাটোরের ছয় পৌরসভা নির্বাচনে স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে পাঁচটিতে আওয়ামী লীগ এবং একটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। নাটোর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের উমা চৌধুরী জলি ২০ হাজার ২৫৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বর্তমান মেয়র শেখ এমদাদুল হক আল মামুন পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩৮৬ ভোট। সিংড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের জান্নাতুল ফেরদৌস ১৪ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান মেয়র অধ্যাপক শামিম আল রাজি মো. সিহানুর রহমান পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৯৩ ভোট। নলডাঙ্গা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের শফিরউদ্দিন মণ্ডল তিন হাজার ১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বর্তমান মেয়র আব্বাস আলী নান্নু পেয়েছেন এক হাজার ৬৯৫ ভোট। গুরুদাসপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের শাহনেওয়াজ আলী মোল্লা পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী আমজাদ হোসেন পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৪৯৪ ভোট। বড়াইগ্রাম পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আবদুল বারেক সরদার পাঁচ হাজার ৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বর্তমান মেয়র ইসাহাক আলী পেয়েছেন তিন হাজার ২১৬ ভোট। গোপালপুর পৌরসভায় বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মোলাম চার হাজার ৯১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের রোকসানা মোর্তুজা লিলি পেয়েছেন চার হাজার ৪ ভোট।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম ৩১ হাজার ৫০৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ’লীগের প্রার্থী সামিউল হক লিটন পেয়েছেন ৩০ হাজার ৫৪ ভোট। শিবগঞ্জ পৌরসভায় ১০ হাজার ৩১০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কারিবুল হক রাজিন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলী পেয়েছেন ৬ হাজার ১৫৭ ভোট। নাচোল পৌরসভায় ২ হাজার ২১৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুর রশিদ খান ঝালু (নৌকা)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমানুল্লাহ-আল মাসুদ পেয়েছেন ২ হাজার ৭২০ ভোট। রহনপুর পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী তারেক আহমেদ ৯ হাজার ৫১৭ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ’লীগের প্রার্থী গোলাম রাব্বানী বিশ্বাস পেয়েছেন ৭ হাজার ৬৩২ ভোট।

বগুড়া : ধুনট পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ৪ হাজার ভোট পেয়ে এ জি এম বাদশাহ্ (জগ) বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আলিমুদ্দিন হারুন মণ্ডল (ধানের শীষ) পেয়েছেন ২ হাজার ৪৬৪ ভোট। শেরপুর পৌরসভার আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলহাজ মো. আবদুস সাত্তার নৌকা প্রতীকে ৮ হাজার ৯১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী স্বাধীন কুমার কুণ্ডু (ধানের শীষ) ৬ হাজার ১৬৫ ভোট। শিবগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী তৌহিদুর রহমান মানিক ৭ হাজার ৩৬৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মতিয়ার রহমান মতি (ধানের শীষ) ৫ হাজার ৯৮৭ ভোট। নন্দীগ্রাম পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল ৪ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সুশান্ত কুমার শান্ত (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৪৬ ভোট। গাবতলী পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম সাইফ (ধানের শীষ) ৭ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল জলিল পাইকার জগ মার্কায় পেয়েছেন ২ হাজার ২৩৬ ভোট। সান্তাহার পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু (ধানের শীষ) ৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদুল ইসলাম রাজা (নৌকা প্রতীক) পেয়েছেন ৮ হাজার ১৫৮ ভোট। কাহালু পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলহাজ হেলাল উদ্দিন কবিরাজ নৌকা প্রতীকে ৪ হাজার ৭৫৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আবদুল মান্নান ভাটা (ধানের শীষ) ৩ হাজার ৪৬৭ ভোট।

জয়পুরহাট : জেলার ৩টি পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। জয়পুরহাট পৌরসভায় মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ২৩ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির অধ্যক্ষ শামসুল হক পেয়েছেন ১১ হাজার ১৯০ ভোট। আক্কেলপুর পৌরসভায় মেয়র হয়েছেন গোলাম মাহফুজ চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ৬ হাজার ৬০০ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির রেজাউল করিম পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৫৫ ভোট। কালাই পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী হালিমুল আলম জোন ৬ হাজার ৮৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির সাজ্জাদুর রহমান তালুকদার সোহেল পেয়েছেন ২ হাজার ২৬১ ভোট।

পাবনা : পাবনার সাতটি পৌরসভার মধ্যে আওয়ামী লীগ ৫টি, বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র ১টি ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বতন্ত্র ১টিতে জয়ী হয়। পাবনার ফরিদপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের খ ম কামরুজ্জামান মাজেদ মেয়র পদে জয়লাভ করেছেন। পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৯৮ ভোট। ধানের শীষ নিয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এনামুল হক পান ৩ হাজার ৫৩০ ভোট। ঈশ্বরদী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ মিন্টু মেয়র পদে জয়লাভ করেছেন। ভোট পেয়েছেন ২৬ হাজার ৯১৩ ভোট। ধানের শীষ নিয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোখলেছুর রহমান বাবলু পান ৯ হাজার ৩৭২ ভোট। ভাঙ্গুরা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম হাসনায়েন রাসেল ৫ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান পেয়েছেন ৩ হাজার ২৯৫ ভোট। পাবনার চাটমোহর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মির্জা রেজাউল করিম দুলাল মেয়র পদে জয়লাভ করেছেন। পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৩৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রফেসর আবদুল মান্নান। সুজানগর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল ওহাব ৬ হাজার ৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন তোফা পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৫ ভোট। সাঁথিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী মিরাজুল ইসলাম ১২ হাজার ৫৮৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৯ হাজার ৩৭২ ভোট। সদর পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল হাসান মিন্টু ৩০ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অপরদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী রকিব হাসান টিপু। তার প্রাপ্ত ভোট ২৪ হাজার ৬৫৪ ভোট।

খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ফলাফল : আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেছে— খুলনার চালনা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সনত্ কুমার বিশ্বাস মেয়র পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৪ হাজার ৯৩৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল জগ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ৫১৯ ভোট। পাইকগাছা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিম জাহাঙ্গীর মেয়র পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ৩৮৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৬০৩ ভোট পেয়েছেন। ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তছলিম উদ্দিন চৌধুরী ১৩ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মজিবুর রহমান পেয়েছেন ৬৩৫ ভোট। মাগুরায় ২৭ হাজার ৯৫০ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের খুরশিদ হায়দার টুটুল বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির ইকবাল আকতার খান কাফু পেয়েছেন ১৫ হাজার ৪৯৬ ভোট। বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল ৫ হাজার ৬৪৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টার পেয়েছেন ৪০৩ ভোট। মুলাদী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মো. শফিকুজ্জামান রুবেল ৯ হাজার ৩৫৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আসাদ মাহমুদ পেয়েছেন ৫৯৬ ভোট। হারিছুর রহমান (গৌরনদী), কামাল উদ্দিন খান (মেহেন্দীগঞ্জ), লোকমান হোসেন ডাকুয়া (বাকেরগঞ্জ), গিয়াস উদ্দিন বেপারী (উজিরপুর),

কুষ্টিয়া সদরে আনোয়ার হোসেন, মিরপুরে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী এনামুল হক (নৌকা) প্রতীকে ৯ হাজার ৮৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা আবুল হাসেম (মোবাইল ফোন) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৮৮৫ ভোট। কুমারখালীতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান অরুণ ৮ হাজার ৪২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তরিকুল হক (ধানের শীষ) প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৬২৪ ভোট। খোকসায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ৫ হাজার ৭২০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আল মাসুম মোর্শেদ শান্ত পেয়েছেন ৩ হাজার ১৬৮ ভোট। ভেড়ামারায় আওয়ামী লীগের শামীমুল ইসলাম ছানা ৭ হাজার ৬৫৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাসদ মনোনীত প্রার্থী আবদুল আলিম স্বপন পেয়েছেন ৪ হাজার ৪০৬ ভোট। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে অ্যাডভোকেট মনিরুল হক তালুকদার, ঝিনাইদহের মহেশপুরে আবদুর রশিদ খান, হরিণাকুণ্ডুতে শাহিনুর রহমান, শৈলকূপায় কাজী আশরাফুল আজম, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে কামাল উদ্দিন খান, বাকেরগঞ্জে লোকমান হোসেন ডাকুয়া, গৌরনদী মো. হারিছুর রহমান হারিছ, উজিরপুরে গিয়াস উদ্দিন বেপারি, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে মো. গোলাম কবির, বরগুনার পাথরঘাটায় আনোয়ার হোসেন আকন্দ, চুয়াডাঙ্গা সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ওবাইদুর রহমান চৌধুরী ২৪ হাজার ৯৮৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী (নৌকা) পেয়েছেন ১০ হাজার ৫৭ ভোট। আলমডাঙ্গা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাসান কাদির গনু ৭ হাজার ২০০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির মীর মহিউদ্দিন (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৫ হাজার ১৯০ ভোট। দর্শনা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী মতিয়ার রহমান ১১ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতের আশকার আলী (জগ) পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৫৬ ভোট। জীবননগর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম (নারিকেল গাছ) ৬ হাজার ৪০৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির নোয়াব আলী (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৩ হাজার ২৪ ভোট। যশোর চৌগাছায় নূর উদ্দীন আল মামুন হিমেল, বাঘারপাড়ায় কামরুজ্জামান বাচ্চু, মনিরামপুরে মাহমুদুল হাসান, কেশবপুরে রফিকুল ইসলাম মোড়ল, নওয়াপাড়ায় সুশান্ত দাস শান্ত জয়ী হয়েছেন।

ভোলা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির নৌকা প্রতীকে ২১,১৩২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হারুন অর রশিদ ট্রুম্যান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১৭২৭ ভোট। বোরহানউদ্দিনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম নৌকা প্রতীকে ৬২৬৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনিরুজ্জামান কবির ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪৩ ভোট। দৌলতখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকির হোসেন তালুকদার নৌকা প্রতীকে ৬৯৭৪ পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রার্থী বিএনপির আনোয়ার হোসেন কাঁকন পেয়েছেন ৬৭৯ ভোট। নড়াইল সদরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, যশোর সদরে জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিপুলচন্দ্র হাওলাদার, বাগেরহাট সদরে খান হাবিবুর রহমান, কুয়াকাটায় আবদুল বারেক মোল্লা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি জয়লাভ করেছে— সাতক্ষীরা সদরে তাকসিন আহমেদ সৃষ্টি, কলারোয়ায় গাজী আকতারুল ইসলাম। স্বতন্ত্র জিতেছেন— ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে জাহিদুল ইসলাম জিরা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন— আওয়ামী লীগ প্রার্থী পিরোজপুর সদরে হাবিবুর রহমান মালেক আগেই নির্বাচিত হন। এ ছাড়া বরগুনার বেতাগী পৌরসভার ৯ কেন্দ্রের মধ্যে ৮টির ফলাফলে আওয়ামী লীগের এ বি এম গোলাম কবির (একটি কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত) এগিয়ে রয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগ ও সিলেট বিভাগের ফলাফল : আওয়ামী লীগের যারা জয়লাভ করেছেন— কুমিল্লায় আবুল খায়ের (লাকসাম), মফিজুল ইসলাম (চান্দিনা), নজরুল ইসলাম (হোমনা), নাইম ইউসুফ (দাউদকান্দি), মিজানুর রহমান (চৌদ্দগ্রাম), তাকজিল খলিফা (আখাউড়া), নাজমুল আলম (কচুয়া), রফিকুল ইসলাম জর্জ (ছেংগারচর), আওলাদ হোসেন (মতলব), মাহফুজুল হক (ফরিদগঞ্জ), আ স ম মাহবুবুল আলম (হাজীগঞ্জ), ওমর ফারুক খান (দাগনভূঞা), আবদুল কাদের (বসুরহাট), এ কে এম ইউসুফ আলী (হাতিয়া), আবুল খায়ের পাটোয়ারী (রামগঞ্জ), ইসমাইল খোকন (রায়পুর), এম মেজবাহ উদ্দিন (রামগতি), নাজিম উদ্দিন (বারইয়ারহাট), জাফর উল্যাহ (সন্দ্বীপ), গিয়াস উদ্দিন (মিরসরাই), বদিউল আলম (সীতাকুণ্ড), দেবাশীষ পালিত (রাউজান), শাহজাহান শিকদার (রাঙ্গুনিয়া), হারুনুর রশিদ (পটিয়া), মাহবুবুল আলম (চন্দনাইশ), মো. জুবায়ের (সাতকানিয়া), সেলিমুল হক (বাঁশখালী), সামছুল হক (মাটিরাঙা), মোহাম্মদ ইসলাম বেবী (বান্দরবান সদর), জহিরুল হক (লামা), সিলেটের জকিগঞ্জে আওয়ামী লীগের খলিলুর রহমান, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জুয়েল আহমেদ, সদরে ফজলুর রহমান, হবিগঞ্জের মাধবপুরে হিরেন্দ্রলাল সাহা, শায়েস্তাগঞ্জে মো. সালেক মিয়া, আব্দুল মনাফ (জগন্নাথপুর), আয়ুব বখত সুমন (সুনামগঞ্জ সদর), মোশারফ মিয়া (দিরাই), আবুল কালাম চৌধুরী (ছাতক), ফজলুর রহমান (মৌলভীবাজার সদর), আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী (বড়লেখা), ছালেক মিয়া (শায়েস্তাগঞ্জ), হিরেন্দ্র লাল সাহা (মাধবপুর), রায়হান উদ্দিন মিয়া (নগরকান্দা), কাজী লিয়াকত আলী, সুনামগঞ্জের ছাতকে আবুল কালাম চৌধুরী, জগন্নাথপুরে মো. আবদুল মোনাফ, সদরে আয়ুব বখত, দিরাইয়ে মোশাররফ মিয়া, ।

বিদ্রোহী : কানাইঘাটে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নিজামউদ্দিন আল মিজান, গোলাপগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সিরাজুল জব্বার চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এ কে এম শফি আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় তাকজিল ফলিফা, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মিজানুর রহমান, লাকসামে আবুল খায়ের, হোমনায় নজরুল ইসলাম, চান্দিনায় মফিজুল ইসলাম ও দাউদকান্দিতে নাইম ইউসুফ সেইন। চাঁদপুরের হাজিগঞ্জে আ স ম মাহবুবুল আলম, ছেঙ্গারচরে রফিকুল আলম, ফরিদগঞ্জে মাহফুজুল হক, কচুয়ায় নাজমুল আলম, মতলবে আওলাদ হোসেন। ফেনীর দাগনভূইঞায় ওমর ফারুক খান, সদরে হাজী আলাউদ্দিন, পরশুরামে নিজামউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী। নোয়াখালীর বশিরহাটে আবদুল কাদের, হাতিয়ায় এ কে এম ইউসুফ আলী, চাটখিলে মোহাম্মদ উল্লা। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আবুল খায়ের পাটোয়ারী, রামগতিতে এম মেসবাহ উদ্দিন, রায়পুরে ইসমাইল খোকন। চট্টগ্রামের ১০ পৌরসভার সব কটিতেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বারৈয়ারহাটে নিজাম উদ্দিন, সন্দ্বীপে জাফরুল্লাহ টিটু, রাউজানে দেবাশীষ পালিত, রাঙ্গুনিয়ায় শাহজাহান শিকদার, চন্দনাইশে মাহবুবুল আলম খোকা, সাতকানিয়ায় মোহাম্মদ জোবাইর, পটিয়ায় হারুনুর রশিদ, বাঁশখালীতে সেলিমুল হক, সীতাকুণ্ডে বদিউল আলম ও মিরসরাইয়ে গিয়াস উদ্দিন। রাঙামাটি সদরে আকবর হোসেন চৌধুরী। বান্দরবানের লামায় জহিরুল ইসলাম ও সদরে মোহাম্মদ ইসলাম বেবী নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন— হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে সাব্বির আহমেদ চৌধুরী, সদরে কারাবন্দী জি কে গউছ, চুনারুঘাটে নাজিমউদ্দিন আহমেদ ও কুমিল্লার বরুড়ায় জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী। এ ছাড়া খাগড়াছড়ি সদরে নাগরিক কমিটির ব্যানারে স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন। স্থগিত আছে চৌমুহনী পৌরসভা।

ঢাকা বিভাগের ফলাফল : আওয়ামী লীগ থেকে জয়লাভ করেছেন— ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মেয়র পদে ইকবাল হোসেন সুমন, নান্দাইলে রফিকউদ্দিন ভূইয়া, ত্রিশালে এ বি এম আনিসুজ্জামান (বিদ্রোহী), গৌরীপুরে সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, ঈশ্বরগঞ্জে আবদুর সাত্তার (বিদ্রোহী), ভালুকায় ডা. মেজবাহ উদ্দিন কাইয়ুম, ফুলবাড়িয়ায় গোলাম কিবরিয়া। ফরিদপুরের নগরকান্দায় রায়হান উদ্দীন মাস্টার। শরীয়তপুর সদরে আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, ডামুড্যায় হুমায়ুন কবির বাচ্চু ছৈয়াল, নড়িয়ায় হায়দার আলী, ভেদরগঞ্জে আবদুল মান্নান হাওলাদার, জাজিরায় ইউনুছ বেপারী। জামালপুরের মেলান্দহে শফিক জাহেদী রবির, দেওয়ানগঞ্জে শাহনেওয়াজ শাহেনশাহ, সদরে মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মণি, ইসলামপুরে আবদুল কাদের শেখ, সরিষবাড়ীতে রোকনুজ্জামান রোকন। কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় মো. পারভেজ, হোসেনপুরে আবদুল কাইয়ুম খোকন, করিমগঞ্জে আবদুল কাইয়ুম (বিদ্রোহী), কটিয়াদীতে শওকত ওসমান শুক্কুর আলী, বাজিতপুরে আনোয়ার হোসেন আশরাফ, কুলিয়ারচরে আবুল হাসান কাজল, ভৈরবে ফখরুল আলম আক্কাস। মানিকগঞ্জ সদরে গাজী কামরুল হুদা সেলিম (বিদ্রোহ)। নরসিংদী সদর পৌরসভায় মো. কামরুজ্জামান, মনোহরদীতে আমিনুর রশিদ সুজন। গোপালগঞ্জ সদরে কাজী লিয়াকত আলী লেকু। গাজীপুরের শ্রীপুরে আনিছুর রহমান। টাঙ্গাইল সদরে জামিলুর রহমান মিরণ, মধুপুরে মাসুদ পারভেজ, ধনবাড়ীতে খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন, গোপালপুরে রকিবুল হক ছানা, ভূঞাপুরে মাসুদুল হক মাসুদ, মির্জাপুরে সাহাদত্ হোসেন সুমন, সখীপুরে আবু হানিফ আজাদ। নেত্রকোনা সদরে নজরুল ইসলাম খান, দুর্গাপুরে হাজী আবদুস সালাম, মোহনগঞ্জে লতিফুর রহমান রতন, কেন্দুয়ায় আসাদুল হক ভূইয়া, মদনে আবদুল হান্নান তালুকদার শামীম (বিদ্রোহী)। মুন্সীগঞ্জ সদরে আলহাজ ফয়সল আহম্মেদ বিপ্লব, মিরকাদিমে শহিদুল ইসলাম শাহিন। শেরপুরের নকলায় হাফিজুর রহমান লিটন, নালিতাবাড়ীতে আবু বক্কর সিদ্দিক, শ্রীবরদীতে মো. আবু সাঈদ, সদরে গোলাম কিবরিয়া লিটন। মাদারীপুর সদরে খালিদ হোসেন, শিবচরে আওলাদ হোসেন। রাজবাড়ী সদরে মহম্মদ আলী চৌধুরী, পাংশায় আবদুল আল মাসুদ। ঢাকার ধামরাইয়ে গোলাম কবির, সাভারে আবদুল গনী। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগের (বিদ্রোহী) প্রার্থী সাদেকুর রহমান, রূপগঞ্জের তারাবোয় হাসিনা গাজী। বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন— ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় শহীদুল ইসলাম শহীদ, ফুলপুরে আমিনুল হক ও টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে আলী আকবর জব্বার। এ ছাড়া স্বতন্ত্র জিতেছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মোজাফফর হোসেন বাবলু, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে শেখ মো. নিজাম।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৭ মেয়র : নোয়াখালীর চাটখিলে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ উলাহ, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ আহম্মদ হোসেন মীর্জা, পিরোজপুর পৌরসভায় হাবিবুর রহমান মালেক, জামালপুরের মাদারগঞ্জে মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির, ফেনী সদরে হাজী আলাউদ্দিন, পরশুরামে নিজামউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী সাজেল ও চাঁদপুরের ছেঙ্গারচরে মো. রফিকুল আলম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯৪ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৪০ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: